
BJP Plans to Undermine Constitution, Says Rahul Gandhi in Berlin,Source: social media
বার্লিন থেকে প্রকাশিত একটি বক্তব্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে বিজেপি ভারতের সংবিধান বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা করছে, যা দেশের নাগরিকদের সমান অধিকার রক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। রাহুল বলেন, এই ধরনের প্রস্তাব দেশের গণতন্ত্র ও সমাজের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সংবিধান মূলত নাগরিকদের সমান অধিকার, ধর্ম ও ভাষার স্বীকৃতি এবং রাজ্যগুলোর সমতা নিশ্চিত করে। এই সংবিধানের মূল নীতি যদি বিলুপ্ত হয়, তাহলে দেশের সব নাগরিকের মৌলিক অধিকারই সংকটে পড়বে। রাহুল গান্ধী মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র ভারতীয় রাজনীতির নয়, বরং সমগ্র গণতন্ত্রের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, সংবিধান ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন নির্বাচন কমিশন, তদন্ত সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে এই সংস্থাগুলো ব্যবহৃত হলেও, সরকারপক্ষের সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তাঁর বক্তব্যে বলা হয়, বিজেপি সরকারের এই নীতি দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য ভঙ্গ করছে এবং দেশের সংবিধানকে কার্যত ধ্বংসের দিকে ঠেলছে। রাহুল গান্ধী বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি রক্ষার জন্য সক্রিয় প্রতিরোধ দরকার। তিনি যুক্তি দেন যে বিরোধী দলগুলো কেবল ভোটের জন্য নয়, দেশের মৌলিক কাঠামোর সুরক্ষার জন্যও কাজ করবে।
এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিজেপি নেতারা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এই ধরনের মন্তব্যকে দেশের স্বার্থবিরোধী হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কংগ্রেসের একটি কৌশল হতে পারে, যেখানে সংবিধান ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ইমেজ শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বার্লিনে রাহুলের এই বক্তব্য ভারতীয় রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংবিধান ও নাগরিক অধিকার নিয়ে এমন বিতর্ক আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখন সংবিধান রক্ষার দাবি ও বিতর্কের মধ্যে নতুন কৌশল খুঁজছে।
রাজনীতিবিদদের এই উত্তেজনাপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে দেখা যাচ্ছে, সংবিধান, সমতা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাহুল গান্ধীর বার্লিন সফর এই বিতর্ককে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও prominence প্রদান করেছে।












