ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে বাড়ছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন | Diplomatic Tension Grows Between India and Bangladesh

Diplomatic Tension Grows Between India and Bangladesh

Diplomatic Tension Grows Between India and Bangladesh,Source: social media

নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে ভারতের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনের সামনে সংঘটিত সহিংস প্রতিবাদ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ঘটনাকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য অস্বস্তিকর বলেই দেখছে ঢাকা।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনের সামনে যেসব বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, তা কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী। শুধু দিল্লিই নয়, দেশের অন্যান্য এলাকায়ও বাংলাদেশ-সম্পর্কিত স্থাপনার সামনে উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, কূটনৈতিক মিশন ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে কোনো শিথিলতা হলে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশ মনে করছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি শুধু নিরাপত্তার প্রশ্নই নয়, পারস্পরিক আস্থার ওপরও আঘাত হেনেছে।

এই পরিস্থিতির জেরে দুই দেশের ভিসা ও কনস্যুলার পরিষেবায়ও প্রভাব পড়েছে। কিছু জায়গায় সাময়িকভাবে পরিষেবা সীমিত করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা ব্যবসার মতো জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করছে। ফলে কূটনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ নাগরিকদের জীবনেও।

Also Read:  প্রধানমন্ত্রী মোদীর নদিয়ায় ₹৩২০০ কোটি সড়ক প্রকল্প উদ্বোধন | PM Modi Inaugurates ₹3200 Crore Highway Projects in West Bengal

ভারতের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সীমিত থাকলেও, কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সংলাপের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এদিকে ভারতের বিভিন্ন শহরে সংগঠিত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এসব আন্দোলনের কারণে কূটনৈতিক মিশনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ মনে করছে, এ ধরনের ঘটনায় উগ্র মনোভাব উসকে দেওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে সংযম, দায়িত্বশীল আচরণ এবং কূটনৈতিক আলোচনাই হতে পারে একমাত্র পথ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধান হলে তবেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক।


WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top