
Safe Gold Investment Strategies Amid Rising Prices,Source: social media
বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম এখন সর্বকালের উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রথমবারের মতো স্বর্ণে বিনিয়োগ করতে চাইছেন এমন নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একদিকে আকর্ষণীয়, অন্যদিকে সতর্ক থাকার মতো পরিস্থিতি। অর্থনৈতিক অস্থিরতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা, এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকা—এসব কারণের মিলিত প্রভাবেই সোনার দাম এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সুদের হারের ওঠানামার সঙ্গে স্বর্ণের দাম ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। যখন সুদের হার কম থাকে, তখন সুদভিত্তিক সম্পদ যেমন সঞ্চয়পত্র বা বন্ডে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি প্রলোভন তৈরি করে।
তবে শুধুমাত্র দামের ঊর্ধ্বগতি দেখে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। স্বর্ণে বিনিয়োগের বিভিন্ন উপায় আছে—যেমন ভৌত সোনা, স্বর্ণ ইটিএফ বা ডিজিটাল স্বর্ণ। ভৌত সোনা হাতে পাওয়া যায়, তবে সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার খরচ থাকে। অন্যদিকে ইটিএফ এবং ডিজিটাল স্বর্ণ সহজে কেনা-বেচা যায়, কিন্তু এতে ফি এবং বাজার ঝুঁকি রয়েছে।
নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য গয়না বিনিয়োগ সবসময় সুবিধাজনক নয়। গয়নায় মেকিং চার্জ এবং মূল্যবান পাথরের প্রিমিয়াম থাকে, যা রিটার্ন কমিয়ে দেয়। তাই বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণের বার, কয়েন বা ইটিএফ বেছে নেওয়া বেশি যুক্তিসঙ্গত।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য অপরিহার্য। স্বর্ণ দীর্ঘমেয়াদে মূল্য সংরক্ষণে কার্যকর হলেও স্বল্পমেয়াদে এর দাম ওঠানামা করতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে নিজের ঝুঁকি গ্রহণক্ষমতা এবং বিনিয়োগের লক্ষ্য সময়কাল সঠিকভাবে নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু স্বর্ণের দাম ইতিমধ্যেই উচ্চ, তাই নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য ধীরে ধীরে নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ করা ভালো। ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং বা ধাপে ধাপে ক্রয় করার পদ্ধতি বাজারের অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করে এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
সবশেষে, রেকর্ড উচ্চ দামে স্বর্ণ কেনার কথা ভাবলে কিছু ভয় অনুভব করা স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এটি বিনিয়োগের জন্য কার্যকর হতে পারে। স্বর্ণকে এখনও বিশ্ব বাজারে একটি নিরাপদhaven সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ও মান সংরক্ষণে সহায়ক।












