Purba Bardhaman, Kalna: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় বালি ও মাটির অবৈধ কারবার বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাতের অন্ধকারে ট্র্যাক্টর ভরে বালি ও মাটি তোলা এবং তা অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগও বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালনা মহকুমার পূর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লকের লোহাচুরে গ্রহরাজতলা এলাকায় কিছু খাস জমি রয়েছে। প্রতি বছর মাঘ মাসে এই এলাকায় বড় মেলার আয়োজন হয় এবং দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ সেখানে আসেন। কিন্তু অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে সেই খাস জমি থেকেই অবৈধভাবে বালি ও মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর ফলে মেলাপ্রাঙ্গণের অনেক জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সেই গর্তের গভীরতা ১০ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বেশিরভাগ সময় এই কাজ হয় রাতের দিকে। ট্র্যাক্টর এবং ডাম্পারে করে বালি ও মাটি তুলে দ্রুত অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের দাবি, এই বালি ও মাটি স্থানীয় এলাকায় বাড়ি তৈরির কাজ বা অন্যান্য নির্মাণ কাজে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে অবৈধ এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের লাভের অঙ্কও বেশ বড় হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীরা আরও জানিয়েছেন, প্রতিদিন বহু ট্র্যাক্টর এই রাস্তায় চলাচল করায় ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে গোটা এলাকা। এর ফলে আশেপাশের বাড়িঘর ও জমির উপরও প্রভাব পড়ছে। অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত ধুলোর কারণে ফসলের ক্ষতিও হচ্ছে। মাঝে মাঝে গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ জানালে কিছুক্ষণের জন্য পরিস্থিতি শান্ত করা হয়, কিন্তু পরে আবার একই কাজ শুরু হয়ে যায় বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের জালুইডাঙা মৌজায় ভাগীরথী নদীর চর থেকেও বালি ও মাটি তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর নদীপথে সাধারণ মানুষের যাতায়াত কমে গেলে তখন থেকেই শুরু হয় এই কাজ। এরপর ট্র্যাক্টরে করে সেই বালি ও মাটি বিভিন্ন ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে অন্য গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি ঠিকমতো না থাকায় এই অবৈধ ব্যবসা বাড়ছে। তাদের দাবি, সরকারি জমি ও নদীর চর থেকে এইভাবে বালি ও মাটি তুলে নেওয়া হলে পরিবেশের বড় ক্ষতি হতে পারে।
তবে শাসকদলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। কোথাও যদি বেআইনি কাজ হয়ে থাকে, তবে প্রশাসন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কিছু অভিযোগ তাদের কাছে পৌঁছেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর চর বা খাস জমি থেকে নিয়ম ভেঙে বালি ও মাটি তোলা হলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে এবং জমির গঠনও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি আশেপাশের এলাকায় ভাঙন বা ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
ভোটের আগে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় কালনা মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন, প্রশাসন যদি নিয়মিত নজরদারি বাড়ায় এবং কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে এই ধরনের অবৈধ কারবার অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে মত তাদের।

I am Raju Das. I have been working in news and digital journalism for more than five years. I have a strong interest in covering politics and regional news. Before publishing any report, our team always conducts in-depth research and verifies the information so that we can present accurate and reliable news to our readers.
I run a news website called “Mtimes,” where we mainly publish important local and regional news. Our goal is to deliver fast, accurate, and trustworthy information to readers. That’s why we try to analyze the background and real situation behind every story and present it in simple and clear language.
Our team continuously works hard to improve the quality of our reporting and journalism.
In today’s era of digital journalism, my main goal is to provide readers with reliable, fact-based local and regional news they can trust.


