সোনা কেনা এমন একটি কাজ, যেখানে একটু ভুল করলেই বড় ক্ষতি হতে পারে। বাজারে অনেক সময় বিভিন্ন ধাতু মিশিয়ে বা মাত্রা কমিয়ে গহনা বিক্রি করা হয়। আবার কেউ কেউ শুধু “22K” বা “18K” লিখে গহনা বিক্রি করেন, কিন্তু সেটি সত্যিই কত ক্যারেটের সোনা তা সাধারণ ক্রেতা বুঝতে পারে না। তাই সোনা কিনতে গেলে কোনটা কত ক্যারেট, কোনটায় হলমার্ক আছে এবং গহনার গায়ে লেখা ছোট নম্বরগুলো কী বোঝায় — এসব জানা অত্যন্ত জরুরি।
এই আর্টিকেলটি এমনভাবে লেখা হলো যাতে যে–কেউ পড়েই সহজে বুঝতে পারেন কোন সোনা আসল, কোনটায় হলমার্ক আছে, আর সেটি কত ক্যারেটের।
ক্যারেট আসলে কী?
ক্যারেট বলতে বোঝায় সোনার বিশুদ্ধতার মাপ।
সোনা যত বেশি খাঁটি হবে, তার ক্যারেট তত বেশি।
সবচেয়ে খাঁটি সোনা হলো 24 ক্যারেট, অর্থাৎ এর মধ্যে প্রায় পুরোটা সোনাই থাকে।
তবে 24 ক্যারেট সোনা খুবই নরম, তাই গহনা তৈরি করতে সাধারণত 22K, 18K বা 14K ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ ভাবে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার বিশুদ্ধতা:
24K = 99.9% খাঁটি সোনা
22K = 91.6% খাঁটি সোনা
18K = 75% খাঁটি সোনা
14K = 58.5% খাঁটি সোনা
9K = 37.5% খাঁটি সোনা
এগুলো শুধু নাম নয় — গহনার গায়ে এগুলোর সংখ্যা অন্যভাবে লেখা থাকে, যা দেখে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন।
গহনার গায়ে লেখা নম্বর দিয়ে কিভাবে সোনার ক্যারেট বুঝবেন?
সোনার গহনার ভেতরে বা কোনও কোণে ছোটো করে কয়েকটি সংখ্যা থাকে। এই সংখ্যাগুলোই আসলে গহনার পিউরিটি (বিশুদ্ধতা) বোঝায়।
999 → 24 ক্যারেট
916 → 22 ক্যারেট
750 → 18 ক্যারেট
585 → 14 ক্যারেট
375 → 9 ক্যারেট
যেমন, যদি আপনি কোনও বালা বা চেইনে “916” লেখা দেখেন, তাহলে সেটি নিশ্চিতভাবে 22 ক্যারেট সোনা।
একইভাবে “750” মানে সেটি 18 ক্যারেট।
এগুলো আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত পিউরিটি কোড, যা খুবই নির্ভরযোগ্য।
হলমার্ক কী এবং কেন এত জরুরি?
হলমার্ক মানে হলো সরকারি অনুমোদিত পরীক্ষাগার থেকে সোনার বিশুদ্ধতা যাচাই করে দেওয়া সিলমোহর।
এটি ছাড়া আপনি কোনও গহনার পিউরিটি শতভাগ বিশ্বাস করতে পারবেন না।
একটি আসল হলমার্কে থাকে তিনটি জিনিস—
পিউরিটির নম্বর (916/750/585 ইত্যাদি)
পরীক্ষা কেন্দ্রের ইউনিক সিম্বল বা কোড
জুয়েলারির নিজস্ব ট্রেডমার্ক বা আইডেন্টিটি
এই তিনটি জিনিস একসঙ্গে থাকলে সেটি নিশ্চিতভাবে হলমার্ক করা সোনা।
মনে রাখবেন—
শুধু “22K” বা “18K” লেখা থাকলেই হলমার্ক হয় না।
হলমার্ক মানেই গহনা নির্ভরযোগ্য।
চোখে দেখে বা বাড়িতে সহজ উপায়ে কীভাবে কিছুটা যাচাই করবেন?
যদিও নিখুঁত পরীক্ষা শুধুমাত্র ল্যাবেই সম্ভব, তবুও কয়েকটি সহজ লক্ষণ দেখে আপনি ধারণা করতে পারবেন—
রঙ: 24K সোনা গাঢ় হলুদ হয়। ক্যারেট যত কমবে, রঙ তত হালকা বা একটু মেটালিক হবে।
ওজন: সোনা ভারী ধাতু। একই আকারের নকল গহনা তুলনামূলক হালকা হয়।
চুম্বক পরীক্ষা: খাঁটি সোনা চুম্বকে আকৃষ্ট হয় না।
দাম: খুব কম দামে “24K” বলে বিক্রি করলে বুঝবেন নিশ্চয়ই কিছু সমস্যা আছে।
যদিও এসব সম্পূর্ণ নির্ভুল নয়, তবে সাধারণভাবে ধারণা পাওয়া যায়।
নকল বা প্লেটেড গহনার কিছু চেনার উপায়
খুব চকচকে সোনালি রঙ থাকলে অনেকসময় সেটা গোল্ড প্লেটেড হয়।
কিছুদিন ব্যবহার করলে রঙ উঠে ভেতরের ধাতু দেখা যায় — কিন্তু এটি কেনার সময় ধরা যায় না।
নকল গহনাতেও নকল “22K” মুদ্রণ থাকতে পারে, তাই হলমার্ক ছাড়া বিশ্বাস করবেন না।
সোনা নিরাপদে কেনার সর্বোত্তম উপায়
সবসময় হলমার্ক আছে কি না ভালো করে দেখুন।
গহনার গায়ে 916 / 750 / 585 নম্বর খুঁজে বের করুন।
রসিদ বা বিল নিন এবং সেটি ভালোভাবে রেখে দিন।
দাম ও মেকিং চার্জ পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।
সন্দেহ হলে গহনা নিয়ে নিকটস্থ অ্যাসে ল্যাবে যাচাই করান।
বড় কেনাকাটায় বিশ্বস্ত দোকান বা ব্র্যান্ড বেছে নিন।
শেষ কথা
সোনা খুব মূল্যবান জিনিস, তাই অল্প ভুলে বড় ক্ষতি হতে পারে।
কিন্তু গহনার গায়েই যে নম্বর লেখা থাকে—সেটা ঠিকভাবে বুঝতে পারলেই আপনি নিজেই জানতে পারবেন সোনা কত ক্যারেটের এবং আসল হলমার্ক আছে কি না। শুধু “916”, “750”, “585” এর মতো নম্বরগুলো চেনা থাকলেই অর্ধেক কাজ সহজ হয়ে যায়।
জ্ঞান থাকলে প্রতারণার সুযোগ কমে যায়—এটাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

I am Raju Das. I have been working in news and digital journalism for more than five years. I have a strong interest in covering politics and regional news. Before publishing any report, our team always conducts in-depth research and verifies the information so that we can present accurate and reliable news to our readers.
I run a news website called “Mtimes,” where we mainly publish important local and regional news. Our goal is to deliver fast, accurate, and trustworthy information to readers. That’s why we try to analyze the background and real situation behind every story and present it in simple and clear language.
Our team continuously works hard to improve the quality of our reporting and journalism.
In today’s era of digital journalism, my main goal is to provide readers with reliable, fact-based local and regional news they can trust.













