
AIS Mismatch Behind Major Tax Refund Hold-Ups in 2025,Source: social media
চলতি বছরে আয়কর রিফান্ড প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক বিলম্ব দেখা দিয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে বহু করদাতা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। রিফান্ড স্ট্যাটাসে “প্রসেসিংয়ের অধীন” দেখালেও দীর্ঘ সময় কেটে যাচ্ছে, অথচ টাকা অনেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাচ্ছে না। সামাজিক মাধ্যমে নানা অভিযোগের ঢল নেমেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
রিফান্ড বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ হলো রিটার্নে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সরকারের Annual Information Statement বা AIS-এর ডেটার অমিল। করদাতার আয় উৎস যদি একাধিক হয়—যেমন চাকরির পাশাপাশি সুদের আয়, ট্রেডিং প্রফিট বা বিদেশি আয়—তাহলে ছোটখাটো অসামঞ্জস্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে ধরা পড়ে। এসব ক্ষেত্রে রিটার্ন সরাসরি ম্যানুয়াল যাচাইয়ের আওতায় যায়, ফলে পুরো প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হয়।
এ বছর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে সেন্ট্রালাইজড প্রসেসিং সেন্টারের কঠোর স্ক্রিনিং ব্যবস্থা। বিশেষ করে যেসব রিটার্নে রিফান্ডের পরিমাণ তুলনামূলক বড়, সেখানে আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন রেকর্ড মিলিয়ে দেখা, তথ্য পুনরায় যাচাই করা এবং সন্দেহজনক লেনদেন খতিয়ে দেখার মতো ধাপ যুক্ত হওয়ায় সময় স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাই করতেও বহু ক্ষেত্রে ভুল ধরা পড়ছে। নামের বানান, পুরনো IFSC কোড, অথবা ইনঅ্যাকটিভ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কারণে রিফান্ড আটকে যাচ্ছে। করদাতারা অনেকেই রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এসব তথ্য খেয়াল করেন না, ফলে রিফান্ড প্রক্রিয়া বারবার ব্যর্থ হয়ে পুনরায় শুরু করতে হয়।
আমদানিকৃত ডেটা মিলিয়ে দেখার সময় কিছু ছোটখাটো ভুল সংশোধনের কাজ এখন সিস্টেম নিজে করার চেষ্টা করছে। তবুও জটিল আয় কাঠামো বা একাধিক আর্থিক লেনদেনে যুক্ত করদাতাদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে বেশি সময় লাগছে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাকলগ পুরোপুরি কমতে কিছুটা সময় আরও লাগবে।
সমস্যা দেখা দিলে করদাতাদের রিফান্ড স্ট্যাটাস নিয়মিত দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়া, নোটিশের দ্রুত উত্তর দেওয়া ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পূর্বেই ভেরিফাই করে রাখা জরুরি। এতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়ানো সম্ভব।
সবশেষে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আয়কর রিফান্ড পেতে এখন ধৈর্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ডেটা মিল, AIS-এর সাথে সামঞ্জস্য এবং ব্যাংক তথ্যের নির্ভুলতা রাখলে আগামী বছরে এই ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।












