
ICICI Prudential AMC Listing Sparks Investor Optimism,Source: social media
আগামী শুক্রবার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চলেছে আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। এই তালিকাভুক্তিকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একাধিক ব্রোকারেজ সংস্থা শেয়ারটির উপর ‘কিনুন’ রেটিং দিয়েছে এবং তাদের মতে, আইপিও দামের তুলনায় শেয়ারটির মূল্য ভবিষ্যতে প্রায় ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে বাজারে প্রবেশের আগেই এই সংস্থাটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এই আইপিওটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে। আবেদন পর্ব শেষ হওয়ার সময় দেখা যায়, প্রস্তাবিত শেয়ারের তুলনায় বহু গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এই বিপুল চাহিদা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিনিয়োগকারীরা সংস্থার ব্যবসায়িক শক্তি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী।
বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বড় আর্থিক সংস্থা ও ফান্ড হাউসগুলি এই আইপিওতে জোরালো অংশগ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, উচ্চ সম্পদমূল্যের বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ খুচরো বিনিয়োগকারীরাও উল্লেখযোগ্যভাবে আবেদন করেছেন। এর ফলে আইপিওটির সাবস্ক্রিপশন পরিসংখ্যান বাজারে ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছে।
আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল এএমসি দেশের অন্যতম বড় ও পরিচিত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা। দীর্ঘদিন ধরে মিউচুয়াল ফান্ড ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় এই সংস্থার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাজারে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি, স্থিতিশীল আয় এবং বিস্তৃত গ্রাহকভিত্তি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
এই আইপিওটি সম্পূর্ণভাবে অফার ফর সেল ভিত্তিতে আনা হয়েছে। অর্থাৎ, এর মাধ্যমে সংস্থার নতুন মূলধন সংগ্রহ করা হচ্ছে না, বরং বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা তাদের অংশ বিক্রি করেছেন। তবুও, বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, তালিকাভুক্তির ফলে সংস্থার বাজারমূল্য আরও স্বচ্ছ হবে এবং ভবিষ্যতে কর্পোরেট গভার্নেন্সের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ব্রোকারেজ সংস্থাগুলির মতে, দীর্ঘমেয়াদে দেশের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের বৃদ্ধি এই সংস্থার আয়ের পক্ষে সহায়ক হবে। ডিজিটাল বিনিয়োগের প্রসার, নতুন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আর্থিক সচেতনতা বাড়ার ফলে এএমসি সেক্টরে বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সবসময়ই ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। তালিকাভুক্তির প্রথম কয়েক দিনে শেয়ারের দামে ওঠানামা হতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত নিজেদের আর্থিক লক্ষ্য ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।












