
Ashes Struggle Pushes Harry Brook to Reassess Game,Scott Bailey (AAP)
চলতি অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ড যখন চাপের মধ্যে, ঠিক তখনই নিজের ব্যাটিং নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন হ্যারি ব্রুক। প্রথম দুই টেস্টে প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স না হওয়ায় তিনি নিজেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তার মতে, কিছু শট নির্বাচন ছিল একেবারেই অপ্রয়োজনীয়, যা ম্যাচের মোড় ঘোরানোর বদলে দলকে আরও সমস্যায় ফেলেছে।
ব্রুক স্বীকার করেছেন, আক্রমণাত্মক মানসিকতা তার স্বভাবের অংশ হলেও সব পরিস্থিতিতে একইভাবে খেলা যায় না। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে ধৈর্য ও ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝা খুব জরুরি। তিনি বলেছেন, এখন মনে হচ্ছে কয়েকটি মুহূর্তে একটু থামা দরকার ছিল, কিন্তু তখন সেটা বুঝতে পারেননি।
ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’ দর্শন নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। এই স্টাইল অনেক ম্যাচে সাফল্য এনে দিলেও অ্যাশেজের মতো কঠিন সিরিজে এর সীমাবদ্ধতাও ধরা পড়েছে। ব্রুক মনে করেন, পুরো দর্শন বদলানোর প্রয়োজন নেই, তবে কোথায় ঝুঁকি নিতে হবে আর কোথায় সংযত থাকতে হবে, সেটার ভারসাম্য খুঁজে বের করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের অবস্থানও তাকে ভাবাচ্ছে। সিরিজে পিছিয়ে থাকার কারণে প্রত্যেক ইনিংসই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ব্যাট করতে নামলে শুধু নিজের খেলা নয়, দলের প্রয়োজনকেও মাথায় রাখবেন। প্রয়োজনে লম্বা সময় উইকেটে থাকার মানসিকতাও রাখতে হবে।
তৃতীয় টেস্টের আগে এই আত্মসমালোচনা ইংল্যান্ড শিবিরে কিছুটা হলেও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তরুণ এই ব্যাটসম্যান জানেন, নিজের সেরাটা দিতে পারলে ম্যাচের রঙ বদলে দিতে পারেন। তাই শটের ঝলক দেখানোর চেয়ে এখন ম্যাচ জেতার পথে অবদান রাখাই তার মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া এখন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ঘরের মাঠে তাদের বোলাররা যেমন ধারাবাহিক, তেমনই ব্যাটাররাও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান তুলছেন। এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের প্রতিটি ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে, যার মধ্যে ব্রুক অন্যতম।
সিরিজের বাকি অংশে হ্যারি ব্রুকের ব্যাটিং ধরণ কেমন হবে, সেদিকেই তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা। আগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ শট নাকি আরও পরিণত ইনিংস—এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে মাঠেই। তবে একথা স্পষ্ট, নিজের ভুল বুঝে সংশোধনের চেষ্টা করাই একজন বড় ক্রিকেটারের সবচেয়ে বড় পরিচয়।












