বাংলাদেশের নরসিংদীতে আবারও এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ব্যস্ত বাজারের মাঝেই খুন হল এক মুদি দোকানদার। নিহত ব্যবসায়ীর নাম শরত চক্রবর্তী মণি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ছোট একটি দোকান চালিয়ে সংসার করতেন। হঠাৎ এই নৃশংস ঘটনার পর গোটা এলাকায় শোক ও ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগে থেকেই শরত মণিকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। কিছুদিন আগেও তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। কিন্তু এত বড় বিপদ আসতে পারে, সেটা কেউ কল্পনাও করেননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দিনের আলোয় বাজারের মাঝেই দুর্বৃত্তরা আচমকা তাঁর উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।
শরত চক্রবর্তী মণি ছিলেন এলাকার পরিচিত মুখ। কারও সঙ্গে বড় কোনও ঝামেলা বা শত্রুতার কথা কেউ জানতেন না। তাই এই হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত শত্রুতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে আরও বড় কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর একের পর এক হামলার খবর সামনে আসায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এই ঘটনার পর নিহতের পরিবার কার্যত ভেঙে পড়েছে। স্ত্রী ও সন্তানের সামনে এখন বড় অনিশ্চয়তা। একমাত্র রোজগেরে মানুষটিকে হারিয়ে তারা দিশেহারা। প্রতিবেশীরা বলছেন, শরত ছিলেন শান্ত স্বভাবের মানুষ, নিজের কাজ নিয়েই থাকতেন। তাঁর সঙ্গে এমন পরিণতি হবে, কেউ ভাবতেই পারেনি।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দোষীদের খুঁজে বের করতে এলাকায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। প্রশাসনের আশ্বাস, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, গোটা সমাজের জন্যই বড় ধাক্কা। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে—এভাবে যদি প্রকাশ্যে খুন হয়, তাহলে নিরাপত্তা কোথায়? নরসিংদীর এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আর নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।













