
Ben Stokes’ Grit Tested as Australia Dominate Third Ashes Test,Source: social media
অ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড। আক্রমণাত্মক “বাজবল্ল” দর্শন নিয়ে মাঠে নামা ইংলিশ দল এই ম্যাচে শুরু থেকেই চাপে ছিল। অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও ধৈর্যশীল পরিকল্পনার সামনে ইংল্যান্ডের ঝুঁকিপূর্ণ ক্রিকেট কার্যত থমকে যায়, আর এই পরিস্থিতিতে দলের লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ওঠেন অধিনায়ক বেন স্টোকস।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া শক্ত ভিত গড়ে তোলে বড় স্কোর করে। তাদের ব্যাটসম্যানরা ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ডের বোলারদের ক্লান্ত করে তোলে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড দ্রুত উইকেট হারায়। টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় এক সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যাচ্ছে সফরকারী দল।
এই সংকটের মধ্যেই ক্রিজে দাঁড়িয়ে পড়েন বেন স্টোকস। প্রচণ্ড গরম, দ্রুত বাউন্স করা পিচ এবং ধারালো বোলিং—সব কিছুর সঙ্গেই লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। একাধিকবার শরীরে আঘাত পেলেও স্টোকস পিছু হটেননি। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল না আগ্রাসী ঝলক, ছিল ধৈর্য, সময় নেওয়া এবং পরিস্থিতি বোঝার পর পরিমিত আক্রমণ।
নবম উইকেটে শেষ দিকের ব্যাটসম্যানকে সঙ্গে নিয়ে স্টোকস একটি মূল্যবান জুটি গড়ে তোলেন। এই জুটি শুধু রানই যোগ করেনি, ইংল্যান্ড ড্রেসিংরুমে কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছিল। দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকার মাধ্যমে স্টোকস প্রমাণ করেন, প্রয়োজনে তিনি বাজবল্লের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে পুরোনো টেস্ট মেজাজে খেলতেও প্রস্তুত।
তবে অস্ট্রেলিয়াও দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের পরিকল্পনায় অবিচল থাকে। তাদের ব্যাটসম্যানরা আবারও ধৈর্যশীল ক্রিকেট খেলেন এবং ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ খুব বেশি দেননি। ইংলিশ বোলাররা চেষ্টা করলেও ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।
এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে সব পরিস্থিতিতে আক্রমণাত্মক কৌশল কার্যকর হয় না। কঠিন কন্ডিশনে টিকে থাকার জন্য ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তার প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়া সেটাই দেখিয়েছে, আর ইংল্যান্ডকে শিখতে হয়েছে বাস্তবতার পাঠ।
শেষ পর্যন্ত, তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের সামগ্রিক পারফরম্যান্স হতাশাজনক হলেও বেন স্টোকসের লড়াকু ইনিংস আলাদা করে নজর কেড়েছে। ফল যাই হোক, এই ইনিংস ইংলিশ ক্রিকেটে নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।












