
BJP Receives Record Funds, Congress Trails,Photo Credit: The Hindu
২০২৪–২৫ অর্থবছরের রাজনৈতিক অনুদানের পরিসংখ্যান সামনে আসতেই দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। ইলেকশন কমিশনে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, এই সময়কালে ভারতীয় জনতা পার্টি বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে, যা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধানটি অত্যন্ত চোখে পড়ার মতো।
হিসেব অনুযায়ী, BJP একাই প্রায় ৬,০৮৮ কোটি টাকার অনুদান পেয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের প্রাপ্ত অনুদান এই অঙ্কের তুলনায় প্রায় বারো গুণ কম। নির্বাচনের বছর হওয়ায় রাজনৈতিক অনুদান বাড়বে, এমন ধারণা আগে থেকেই ছিল, তবে এই বিপুল পার্থক্য অনেককেই চমকে দিয়েছে।
গত অর্থবছরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, BJP-র অনুদান উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগের বছরে যেখানে দলটি তুলনামূলক কম অর্থ পেয়েছিল, সেখানে ২০২৪–২৫ সালে তা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। বিপরীতে কংগ্রেসের অনুদানে তেমন বৃদ্ধি দেখা যায়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা স্থবির বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
শুধু কংগ্রেস নয়, একাধিক বিরোধী দল মিলেও যে পরিমাণ অনুদান পেয়েছে, BJP-র একক প্রাপ্তি তার থেকেও বেশি। এই চিত্র দেশের রাজনৈতিক অর্থনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের আর্থিক শক্তির ব্যবধান স্পষ্ট করে তুলছে। ফলে নির্বাচনী প্রচার, সংগঠন বিস্তার ও জনসংযোগের ক্ষেত্রেও এই ব্যবধানের প্রভাব পড়তে পারে।
এই বিপুল অনুদানের বড় অংশ এসেছে ইলেকটোরাল ট্রাস্টের মাধ্যমে। কর্পোরেট সংস্থা ও বড় দাতারা এই ট্রাস্ট ব্যবহার করে রাজনৈতিক দলগুলিকে অর্থ দিয়ে থাকেন। BJP এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে বলেই রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইলেকটোরাল বন্ড ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন রাজনৈতিক অনুদানে স্বচ্ছতা বাড়লেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রবাহ কমবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নতুন কাঠামোর মধ্যেও শাসক দলের তহবিল আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আর্থিক বৈষম্য ভবিষ্যতের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অনুদানের স্বচ্ছতা, সমতা এবং নীতিগত কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়াও এখন সময়ের অপেক্ষা।












