সম্প্রতি দেশের বহু সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির খবর এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে মানুষ দুশ্চিন্তায় ছিলেন, সেই বিষয়ে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ভারতের মোট ৫৭টি সংস্থা তাদের কাছ থেকে নেওয়া চিটফান্ডের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই সিদ্ধান্তে বহু পরিবার আবার আশার আলো দেখছে।
বছরের পর বছর ধরে অনেক মানুষ তাঁদের জমানো টাকা বিভিন্ন চিটফান্ড কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছিলেন। কেউ ভেবেছিলেন ভবিষ্যতে সন্তানদের পড়াশোনার জন্য টাকা জমানো হচ্ছে, কেউ আবার অবসর জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই বহু সংস্থা বন্ধ হয়ে যায় বা প্রতারণার অভিযোগে জড়িয়ে পড়ে। ফলে হাজার হাজার মানুষ আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের হস্তক্ষেপে এবং আদালতের নির্দেশে এবার সেই টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, যেসব কোম্পানি চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিল, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সেই অর্থই ধাপে ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। অনেক জায়গায় বিশেষ ক্যাম্প বসানো হয়েছে, যেখানে ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে তাঁদের দাবি জানাতে পারছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরাই টাকা ফেরত পান।
যদিও এখনও সব টাকা একসঙ্গে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবুও এই উদ্যোগকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এত বছর পরেও সরকার ও প্রশাসনের এই সক্রিয় ভূমিকা প্রমাণ করছে যে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় চেষ্টা চলছে।
অনেক ভুক্তভোগী বলছেন, হয়তো পুরো টাকা আর ফিরে পাবেন না, কিন্তু অন্তত কিছুটা পেলেও সেটা বড় স্বস্তির। বিশেষ করে যাঁরা বার্ধক্যে পৌঁছেছেন বা যাঁদের অন্য আয়ের উৎস নেই, তাঁদের কাছে এই টাকা নতুন করে বাঁচার আশা জোগাচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ৫৭টি চিটফান্ড কোম্পানির টাকা ফেরতের উদ্যোগ শুধু আর্থিক দিক থেকেই নয়, মানুষের মনে ন্যায়বিচারের বিশ্বাস ফেরানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে সহজে প্রতারণার শিকার না হন, সেই বার্তাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।













