
Congress Claims Parliament Pressure Mounts on Govt: Rahul Gandhi,Photo Credit: The Hindu
নয়াদিল্লি: লোকসভায় কংগ্রেসের সাংসদদের এক বৈঠকে রাহুল গান্ধী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে বন্দে মাতরম এবং নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে যে চাপ তৈরি করেছে, তাতে সরকার অস্বস্তিতে পড়েছে। তিনি বলেন, সংসদে যেভাবে বিরোধী দল বিষয়গুলো সামনে তুলে ধরছে, তাতে সাধারণ মানুষও গুরুত্ব সহকারে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। ফলে এই ইস্যুগুলো এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
বৈঠকে রাহুল গান্ধী সাংসদদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং জানান যে বিরোধীরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে বন্দে মাতরমের ১৫০তম বর্ষে গানটিকে ঘিরে সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দেশে নানা প্রশ্ন উঠছে, আর সেই বিতর্কে সরকার নিজেই চাপে পড়ছে।
বৈঠকে উপস্থিত গৌরব গোগই বলেন, বিরোধীরা সংসদে যেসব বিষয় সামনে এনেছে—যেমন জনগণের মৌলিক অধিকার, ভোটের স্বচ্ছতা ও সাধারণ মানুষের নাগরিক সুবিধা—এসব বিষয় নিয়ে সরকারের অসংলগ্ন প্রতিক্রিয়া থেকেই চাপের চিহ্ন স্পষ্ট। তাঁর মতে, বিরোধীরা শক্ত অবস্থান নিয়েছে বলেই সংসদে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সম্ভব হয়েছে।
এদিন গোগই আরও জানান যে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য ভোট চুরি ও নির্বাচনী সংস্কারের মতো সংবেদনশীল বিষয়ের দিকে সরকারকে বারবার নজর দিতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, সংসদে যেসব উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখা গেছে, তা মূলত সরকারের অস্বস্তির বহিঃপ্রকাশ। বিরোধী দল মনে করছে, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার জন্য এই প্রশ্ন তোলা অত্যন্ত জরুরি।
কংগ্রেসের প্রধান হুইপ কে. সুরেশ জানান, এটি মূলত সাংগঠনিক বৈঠক হলেও সংসদে কার কী ভূমিকা ছিল, কোথায় আরও জোর দেওয়া দরকার—এসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদে কণ্ঠস্বর তুলতে গেলে বিষয়গুলোর গভীরতা বোঝা জরুরি, আর সেই প্রস্তুতির দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে দল।
বন্দে মাতরমকে কেন্দ্র করে চলমান জাতীয় বিতর্কেও রাহুল গান্ধীর অবস্থান বৈঠকে উঠে আসে। তিনি মনে করেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করলে দেশের ইতিহাস বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই বিরোধী দল চাইছে এই আলোচনাটি সৎ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এগিয়ে যাক।
সবশেষে, বৈঠক থেকে যে বার্তা স্পষ্ট, তা হলো বিরোধী দল নিজেদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। রাহুল গান্ধী মনে করেন, গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দলের চাপই সরকারের জবাবদিহিতার মূল মাধ্যম। তাই তাঁরা সংসদে আরও তীব্রভাবে মানুষের ইস্যুগুলো সামনে আনবেন বলে সংকেত দিয়েছেন।












