
Corruption Case Puts Ranatunga Brothers Under Spotlight,Source: social media
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট মহল ও রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার দাম্মিকা রানাতুঙ্গার গ্রেফতারিকে ঘিরে। দুর্নীতির একটি মামলায় তার নাম উঠে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই মামলায় শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আর্জুনা রানাতুঙ্গাকে দ্বিতীয় অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হওয়ায় বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে।
দাম্মিকা রানাতুঙ্গাকে শ্রীলঙ্কার দুর্নীতি দমন কমিশন গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে। পরে তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তিনি যখন সিলোন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন, তখন তেল আমদানির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম হয়। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বাতিল করে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে তেল কেনার সিদ্ধান্তে সংস্থার বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, স্বচ্ছ টেন্ডার পদ্ধতি অনুসরণ না করায় সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে করদাতাদের অর্থ অপচয় হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। আদালতে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় কয়েকশো মিলিয়ন রুপির ক্ষতি হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
এই মামলায় আর্জুনা রানাতুঙ্গার নাম উঠে আসা সবচেয়ে আলোচিত দিক। অভিযোগের সময় তিনি দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুরো টেন্ডার ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও তার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।
বর্তমানে আর্জুনা রানাতুঙ্গা বিদেশে অবস্থান করছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে দাম্মিকা রানাতুঙ্গার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং তাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হবে।
ক্রিকেটার হিসেবে দাম্মিকা রানাতুঙ্গার আন্তর্জাতিক কেরিয়ার সংক্ষিপ্ত হলেও প্রশাসনিক ভূমিকায় তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে আর্জুনা রানাতুঙ্গা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ, যিনি একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।
এই ঘটনা আবারও শ্রীলঙ্কায় সরকারি সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। খেলাধুলা ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের আস্থাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। এখন সব নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি ও তদন্তের অগ্রগতির দিকে।












