
Delhi HC Rules No Employer-Employee Link Through Contractor,Source: social media
দিল্লি হাই কোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে কোনো শ্রমিক যিনি ঠিকাদারের মাধ্যমে একটি সংস্থায় কাজ করছেন, তাঁকে সরাসরি মূল নিয়োগকর্তার কর্মচারী হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এই রায়টি শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পটভূমিতে দেখা যায়, একজন শ্রমিক দাবি করেছিলেন যে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইন্ড্রাপ্রস্থ গ্যাস লিমিটেডের (IGL) ড্রাইভওয়ে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে তাঁর চাকরি হঠাৎ করে শেষ করে দেওয়া হয়েছে এবং এটি বেআইনি। তিনি চাইছিলেন যে সংস্থাটি তাঁকে পুনর্বহাল করবে এবং বকেয়া মজুরি প্রদান করবে।
তবে IGL তাদের পক্ষে যুক্তি দেন যে শ্রমিকটি তাদের সরাসরি কর্মচারী ছিলেন না। বরং তাঁকে একটি ঠিকাদার সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মূল নিয়োগকর্তা হিসেবে তাঁরা শুধুমাত্র তত্ত্বাবধানের ভূমিকা পালন করতেন এবং কোনো সরাসরি নিয়োগ বা নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
প্রথমে শ্রম আদালত শ্রমিকের পক্ষে রায় দেন এবং তাঁকে পুনর্বহাল ও বকেয়া মজুরি প্রদানের নির্দেশ দেন। আদালত মনে করেছিল যে IGL নিয়োজিত কর্মীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করায় তিনি মূল নিয়োগকর্তার কর্মচারী। কিন্তু IGL হাই কোর্টে এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেন।
হাই কোর্ট বিশ্লেষণ করেন যে শ্রমিক যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর দেওয়া দলিলগুলিতে যথেষ্ট বৈধতা ছিল না। এছাড়াও ঠিকাদার সংস্থার নথি এবং উপস্থিতি তালিকা থেকে স্পষ্ট হয় যে শ্রমিক মূল সংস্থার নিয়মিত কর্মচারী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন না।
কোর্ট আরও ব্যাখ্যা করেন যে শ্রম আইন কল্যাণমূলক হলেও, এটি প্রয়োগের জন্য প্রমাণ থাকা অপরিহার্য। শুধুমাত্র দাবি করলেই কোনো কর্মীকে মূল নিয়োগকর্তার কর্মচারী হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়। শ্রমিকের প্রমাণের অভাব এই রায়ে মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত, হাই কোর্ট শ্রম আদালতের পূর্বের রায় বাতিল করে দেন এবং নিশ্চিত করেন যে শ্রমিক মূল নিয়োগকর্তা IGL-এর কর্মচারী নন। তবে শ্রমিকের পূর্বে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ ফেরত দেওয়ার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এই রায় শ্রম আইন এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জটিলতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করছে।












