
Diamond Exports Jump Sharply in November 2025,Source: social media
নভেম্বর ২০২৫-এ ভারতের কাট ও পালিশ করা হীরার রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে, যা দীর্ঘদিনের মন্দার পর গহনাশিল্পে স্বস্তির বার্তা এনেছে। শিল্প সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মাসে কাট ও পালিশ করা হীরার রপ্তানি বছরে বছরে প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম, ফলে এবারের বৃদ্ধি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে উৎসবের মরশুমজনিত চাহিদা। বিশেষ করে বড়দিন ও বছরের শেষের বিক্রির প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বাজার থেকে অর্ডার বেড়েছে। আগের মাসগুলিতে ব্যবসা কিছুটা ধীর থাকলেও নভেম্বর মাসে হঠাৎ করে রপ্তানির গতি বাড়ায় শিল্পে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
সামগ্রিক গহনাজাতীয় পণ্যের রপ্তানিও নভেম্বরে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। হীরা ছাড়াও সোনা, রুপো ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়নার রপ্তানি মিলিয়ে মোট রপ্তানির অঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে শিল্পের একাংশ মনে করছে, এই বৃদ্ধি মূলত স্বল্পমেয়াদি এবং উৎসবকেন্দ্রিক, যা আগামী মাসগুলোতে স্থিতিশীল থাকবে কি না, তা সময়ই বলবে।
যদিও নভেম্বরের ছবি আশাব্যঞ্জক, তবুও চলতি অর্থবর্ষের প্রথম দিকের মাসগুলোর হিসাব করলে পরিস্থিতি এতটা মসৃণ নয়। এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে কাট ও পালিশ করা হীরার মোট রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। এর কারণ হিসেবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার এবং ভোক্তাদের ব্যয়সংকোচনের কথা তুলে ধরছেন বিশ্লেষকরা।
সোনার গয়নার ক্ষেত্রে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। কিছু বাজারে চাহিদা স্থিতিশীল থাকলেও উচ্চ সোনার দামের কারণে অনেক ক্রেতাই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, স্টাডেড জুয়েলারি ও হালকা ডিজাইনের পণ্যের চাহিদা তুলনামূলকভাবে ভালো থাকায় রপ্তানি পুরোপুরি ধসে পড়েনি।
রুপার গয়নার রপ্তানি এই সময়ে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দামের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি ফ্যাশন জুয়েলারির চাহিদা বাড়ায় এই খাতে রপ্তানি দ্রুত বেড়েছে। এছাড়া ল্যাব-গ্রোন হীরা ও প্লাটিনাম গয়নার প্রতিও ধীরে ধীরে আগ্রহ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনার দিক খুলে দিচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, নভেম্বর ২০২৫ ভারতের হীরা ও গহনাশিল্পের জন্য এক ধরনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। যদিও এই সাফল্য স্থায়ী করতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ধারাবাহিকতা, মূল্য স্থিতিশীলতা এবং উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। শিল্পমহল আশা করছে, বর্তমান গতি বজায় থাকলে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারবে।












