দিঘায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের একসঙ্গে উপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এবার তীব্র মন্তব্য করলেন রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। তাঁর বক্তব্য, দিঘায় যে ভাবে দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আচরণ করেছেন, তা শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং অনেকটাই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার প্রকাশ।
তথাগত রায়ের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়ে যায়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সৌজন্য এক জিনিস, কিন্তু তার সীমা থাকা দরকার। তাঁর মতে, দিঘায় সেই সীমা অনেকটাই ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই কথার পর থেকেই শাসক দল ও বিরোধী দলের মধ্যে নতুন করে কথার লড়াই শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে দিঘার এক মন্দির অনুষ্ঠানে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষও হাজির হন এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন। সেই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নানা মহলে নানা রকম প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। কেউ একে স্বাভাবিক সৌজন্য বলে দেখেছেন, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন।
তথাগত রায় শুধু এই মন্তব্যেই থামেননি। তিনি আরও বলেন, রাজ্য বিজেপিতে দিলীপ ঘোষের ভূমিকা আগের মতো আর নেই। তাঁর মতে, দলের ভেতরেই নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন চলছে এবং এই ধরনের ঘটনা সেই অবস্থাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে। পাশাপাশি তিনি এটাও ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বে নতুন মুখ উঠে আসতে পারে।
এই মন্তব্যের পর বিজেপির অন্দরেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। দলের একাংশ মনে করছে, এই ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আবার অন্য একাংশের মতে, এতে দলের ভেতরের বাস্তব পরিস্থিতিই সামনে এসেছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বিষয়টিকে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বলেই ব্যাখ্যা করছেন। তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য দেখানো কোনও অপরাধ নয়, বরং এটা রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ।
সব মিলিয়ে দিঘার একটি ছোট ঘটনার রেশ এখন রাজ্য রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত মন্তব্য থেকে শুরু করে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, বাংলার রাজনীতিতে উত্তাপ এখনও একেবারেই কমেনি। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।













