
Duckett Leads England to Historic Win Against India, Photo source: X handle
ইংল্যান্ডের লিডসের হেডিংলি মাঠে ২৪ জুন ২০২৫-এ শুরু হওয়া প্রথম টেস্টে ভারত প্রথম দুই ইনিংসেই বড় স্কোর গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছিল। ভারতের ব্যাটাররা পরপর শতক তুলে দলকে শক্ত ভিত দেয় এবং বোলাররাও প্রথম দিকে যথেষ্ট ধার দেখিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি ভারতের দিকেই ঝুঁকেছে।
কিন্তু শেষ দিনে দৃশ্যপট পুরো বদলে যায়। ৩৭১ রানের বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরু থেকেই আগ্রাসী তবু পরিমিত ব্যাটিং প্রদর্শন করে। ওপেনার বেন ডাকেট ও জ্যাক ক্রলির জুটি ছিল দিনের সেরা দৃষ্টান্ত। তাদের ১৮৮ রানের উদ্বোধনী পার্টনারশিপ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং ভারতের পরিকল্পনায় চাপ তৈরি করে।
ডাকেটের ১৪৯ রানের ইনিংস ইংল্যান্ডের চেজকে প্রাণবন্ত করে তোলে। তিনি আক্রমণাত্মক শর্টসের সঙ্গে দুর্দান্ত শট-সিলেকশন মিলিয়ে ইনিংসটিকে অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে যান। অপর দিকে ক্রলির শান্ত, ধীরস্থির ব্যাটিং ছিল দলের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি। এই দুই ওপেনারের দৃঢ়তা ভারতের বোলারদের রিদম নষ্ট করে দেয়।
ভারত শেষ দিনে কিছু সুযোগ পেলেও সেই মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ হাতছাড়া হওয়া এবং ফিল্ডিংয়ের সামান্য ভুল পরিস্থিতিকে ভারতের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়। বিশাল লিড থাকা সত্ত্বেও বোলারদের ধারালো পরিকল্পনা শেষ দিনে কার্যকর হয়নি।
ইংল্যান্ডের রান তাড়া করার পথে মধ্য ও শেষ পর্যায়ে দায়িত্ব নিয়ে খেলেন জো রুট ও জেমি স্মিথ। তারা ঝুঁকিপূর্ণ শট এড়িয়ে ম্যাচকে ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে আনে। ম্যাচের শেষ দিকে তাদের জুটি নিশ্চিত করে যে কোনো চাপেই তারা ভেঙে পড়বে না।
শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ৫ উইকেট হাতে রেখে ৩৭১ রানের এই বিশাল লক্ষ্য সফলভাবে অতিক্রম করে। এটি টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় সফল রান-চেজ হিসেবে জায়গা করে নেয়। এই জয় শুধু স্কোরবোর্ড নয়, মানসিক দৃঢ়তা ও পরিকল্পনার আদর্শ উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়।
সিরিজের প্রথম ম্যাচ এমনভাবে হারায় ভারত বেশ হতাশ হলেও সামনে আরও সুযোগ রয়েছে। তবে তাদের বুঝতে হবে — বড় স্কোর করলেই যথেষ্ট নয়; ফিল্ডিংয়ের সামান্য ভুল ও চাপের মুহূর্তে মনোসংযোগ হারালে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দেখিয়ে দিল, আত্মবিশ্বাসী মনোভাব ও দলগত সমন্বয় থাকলে সহজ নয় এমন লক্ষ্যও জয় করে নেওয়া সম্ভব।













