অ্যাশেজের উত্তেজনা সবসময়ই তীব্র, কিন্তু গ্যাব্বার দ্বিতীয় টেস্টে যে চিত্র ফুটে উঠল, তা অস্ট্রেলিয়ার দৃঢ়তা আর ইংল্যান্ডের অব্যবস্থার এক তীক্ষ্ণ প্রতিচ্ছবি। প্রথম দিনের ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় দিন অস্ট্রেলিয়ার নিচের দিকের ব্যাটসম্যানরা এমনভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন, যা কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়। যখন শীর্ষ ব্যাটিং লাইন-আপ ছন্দ হারাচ্ছিল, তখনই দেখা গেল—অস্ট্রেলিয়ার টেলএন্ডাররা যেন এক এক করে দায়িত্ব তুলে নিচ্ছেন।
বিশেষ করে মিচেল স্টার্কের ইনিংসটি ছিল পুরো ম্যাচের মোড় ঘোরানোর কেন্দ্রবিন্দু। সাধারণত বল হাতে ভয়ঙ্কর তিনি, কিন্তু এই ম্যাচে ব্যাট হাতেও দারুণ ধৈর্য দেখালেন। প্রতিটি বল দেখে-শুনে খেলে তিনি শুধু রানই নয়, অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সময়ও যোগ করলেন। তার সঙ্গে অন্য টেলএন্ডারদের দৃঢ়তা মিলে ইংল্যান্ডের বোলারদের একসময় কেমন অসহায় করে তোলে।
নিচের দিকের ব্যাটসম্যানদের এই লম্বা লড়াইয়ের ফলে অস্ট্রেলিয়া শুধু স্কোরবোর্ডে এগিয়ে যায়নি, বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও হাতে পেয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তারা ক্রিজে থাকার ফলে ইংল্যান্ডকে রাতের গোলাপি বলের মুখোমুখি হতে বাধ্য করা হয়—যা গ্যাব্বার অবস্থায় ভয়ানক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ইংল্যান্ডের বোলিং ইউনিট যতই চেষ্টা করেছে, ব্রেকথ্রু আসেনি।
বিপরীতে ইংল্যান্ডের কৌশলগত ভুল বারবার সামনে এসেছে। ফিল্ড সেটিংয়ে দেরি, বোলিং পরিবর্তনে দ্বিধা, আর ব্যাটিংয়ে প্রয়োজনীয় দৃঢ়তার অভাব—সবকিছু মিলিয়ে দলটি এক অদ্ভুত বিশৃঙ্খলার মধ্যে ছিল। বিশেষ করে টেলএন্ডারদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনার স্পষ্ট অভাব ম্যাচের গতি তাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়।
অস্ট্রেলিয়া যখন প্রথম ইনিংসে উল্লেখযোগ্য লিড গড়ে নেয়, তখনই বোঝা যাচ্ছিল—ইংল্যান্ডের সামনে কঠিন পথ অপেক্ষা করছে। সেই পূর্বাভাসই সত্যি হয় যখন ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে আবার দ্রুত উইকেট হারাতে শুরু করে। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের ধার, সুইং আর আত্মবিশ্বাস—সব মিলে ইংলিশ ব্যাটারদের কাঁপিয়ে দেয়।
গ্যাব্বার বিকেলের আর্দ্রতা আর রাতের হালকা আলোতে বোলারেরা বাড়তি সুবিধা পাওয়ায় ইংল্যান্ড ক্রমেই চাপের মধ্যে পড়ে। তাদের ব্যাটিংয়ের অস্থিরতা ও বিচারবুদ্ধির ভুল আরও স্পষ্ট হতে থাকে। দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকলেও কেউই পরিস্থিতিকে স্থির করতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের গতিপথ স্পষ্ট হয়ে যায়—অস্ট্রেলিয়া কেবল এগিয়েই নেই, বরং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের শক্তি পুরোপুরি হাতে পেয়েছে। দ্বিতীয় দিনের এই নাটকীয় পালাবদলে বোঝা গেল—অ্যাশেজে ছোট মুহূর্তও কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আর সেই পরিবর্তনই গ্যাব্বায় ইংল্যান্ডকে কঠিন অবস্থানে ফেলে দিল।













