
Gold Hits All-Time High Amid Global Tensions,Source: social media
সোনার দাম ইতিহাসে নতুন সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে ফেলেছে। বিশ্ব বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের প্রতীক হিসেবে সোনা এখনও বিনিয়োগকারীদের প্রিয় সম্পদ। মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে সকালের লেনদেনে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিআউন্স প্রায় ৪,৪৮৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। দিনের মধ্যে দাম আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করছেন বিশ্লেষকরা।
ছুটির মরসুমে লেনদেনের পরিমাণ কম থাকায় সোনার দামের ওঠানামা আরও তীব্র হয়েছে। বছরের এই সময় সাধারণত বাজারে তরলতা কম থাকে, ফলে দাম তুলনামূলকভাবে বেশি ওঠানামা করে। শুধুমাত্র সোনা নয়, রূপা, প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুও এই সময়ে উত্থানের মুখে রয়েছে।
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক উল্লম্ফনের পেছনে অন্যতম কারণ হল যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত উত্তেজনা। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ এড়িয়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন। মার্কিন নৌবহর ও ভেনেজুয়েলার তেলের ট্যাংকারের ঘটনাও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
মার্কিন মুদ্রানীতিও সোনার দামের বৃদ্ধি প্রভাবিত করছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যসূচক কমে যাওয়ায় বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে যে আগামী বছর ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে। স্বল্প সুদের পরিবেশে সোনার মতো কোনো লভ্যাংশ না দেওয়া সম্পদ তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
ডলারের দুর্বল অবস্থান এবং ট্রেজারি বন্ডের কম ফলনও সোনার চাহিদা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে সোনা কেনা এবং পোর্টফোলিও ভারসাম্য রাখতে সচেষ্ট হচ্ছেন।
রূপার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতিআউন্স প্রায় ৭০ ডলারের ঘরে পৌঁছেছে। প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামও একইভাবে মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে। এটি বাজারে মূল্যবান ধাতুর শক্তিশালী চাহিদার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সার্বিকভাবে, বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সঙ্গে সম্ভাব্য মুদ্রানীতি পরিবর্তন, সোনাসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রবণতা আগামী বছরও অব্যাহত থাকতে পারে, বিশেষ করে যদি আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও অর্থনীতির অনিশ্চয়তা থাকে।












