
Gold Outlook 2026: Returns Likely to Cool Down,Source: social media
২০২৫ সালে সোনার বাজার বিনিয়োগকারীদের জন্য ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ। বছরের পর বছর ধরে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতু গত বছর এমন রিটার্ন দিয়েছে, যা অনেক অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীকেও অবাক করেছে। আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হারের ওঠানামা এবং ডলারের দুর্বলতা সোনার দামে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে এই উত্থানের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬ সালে সোনার গতি কি একই রকম থাকবে?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরে সোনার রিটার্ন কিছুটা সংযত হতে পারে। অর্থাৎ আগের মতো হঠাৎ বড় লাফের সম্ভাবনা কম হলেও দাম পুরোপুরি পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। দীর্ঘ সময় ধরে দাম বাড়ার পর বাজার সাধারণত একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে প্রবেশ করে, আর ২০২৬ সালেও সেই চিত্রই দেখা যেতে পারে।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনও সোনা কিনে তাদের রিজার্ভ শক্তিশালী করছে। এই প্রবণতা সোনার দামের জন্য একটি বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সোনার দিকে ঝুঁকছে, যা বাজারে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা বজায় রাখছে।
এদিকে সুদের হার ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনাও সোনার পক্ষে ইতিবাচক। সাধারণত সুদের হার কমলে সোনার মতো নন-ইন্টারেস্ট অ্যাসেটের আকর্ষণ বাড়ে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সোনাকে আবারও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সামনে এনে দিচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে বিনিয়োগকারীদের বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখা জরুরি। সোনা হয়তো আগের মতো দ্বিগুণ রিটার্ন দেবে না, কিন্তু পোর্টফোলিওতে স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মাঝারি হারে দাম বাড়ার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বাস্তব চিত্র।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা এখনও একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা শেয়ার বাজারের ঝুঁকি কমাতে চান, তাঁদের জন্য সোনা ভারসাম্য রক্ষার কাজ করে। তবে একসঙ্গে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের বদলে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাই বেশি নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে সোনার বাজারে চরম উত্তেজনার বদলে পরিমিত স্থিতিশীলতা দেখা যেতে পারে। দ্রুত মুনাফার স্বপ্ন না দেখে ধৈর্য ধরে পরিকল্পিত বিনিয়োগ করলে সোনা ভবিষ্যতেও বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতীক হয়ে থাকতে পারে।












