
Gold Prices Dip Slightly Across Major Indian Cities,Source: social media
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশের সোনার বাজারে আবারও নড়চড় দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ইঙ্গিত এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে এদিন সোনার দামে সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বছরের শেষ প্রান্তে এসে বিশ্ব অর্থনীতির নানা অনিশ্চয়তা সোনার দামে প্রভাব ফেলছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের খুচরো বাজারে।
রাজধানী দিল্লিতে এদিন ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ২২ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দামেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। শহরের গয়নার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও অনেকেই দাম আরও কমার আশায় কেনাকাটা স্থগিত রেখেছেন।
মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুর বাজারেও প্রায় একই চিত্র ধরা পড়েছে। এই দুই শহরে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় সমান স্তরে রয়েছে এবং ২২ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রেও বড় কোনো পার্থক্য নেই। ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের প্রভাব দ্রুত দেশের বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে।
দক্ষিণ ভারতের বড় বাজার চেন্নাইয়ে সোনার দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি থাকলেও সেখানেও কমতির দিকটাই স্পষ্ট। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, উৎসব ও বিয়ের মরসুম আসন্ন হলেও ক্রেতারা এখন বেশ হিসেব করে কেনাকাটা করছেন।
কলকাতা, হায়দরাবাদ, আহমেদাবাদ এবং জয়পুরের মতো শহরগুলোতেও ২৪ ক্যারেট ও ২২ ক্যারেট সোনার দামে হালকা পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে কলকাতায় গত কয়েক দিনের তুলনায় দাম কিছুটা কম হওয়ায় মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে। অনেকেই পুরনো গয়না বদলে নতুন গয়না কেনার সুযোগ খুঁজছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তি, সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিই এখন সোনার দামের মূল নিয়ামক। বিনিয়োগকারীরা আপাতত বড় ঝুঁকি নিতে চাইছেন না, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সোনার বাজার ক্রেতা ও বিনিয়োগকারী উভয়ের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। যারা গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য বর্তমান দর কিছুটা স্বস্তির হলেও বাজারের গতিপ্রকৃতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












