
Government Clarifies Stand on 8th Pay Commission
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে জল্পনা বহুদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে, কারণ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে এখনই নতুন বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে কর্মচারীরা স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইছেন, তাঁদের আয় কাঠামোয় বড় পরিবর্তন কবে আসতে পারে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক প্রয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই শুধুমাত্র সময়ের হিসাব ধরে কমিশন ঘোষণা করা বাস্তবসম্মত নয় বলেই সরকার মনে করছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় বেতন ও ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৬ সাল থেকে চালু রয়েছে। সাধারণভাবে দশ বছর অন্তর নতুন বেতন কমিশনের কথা বলা হলেও বাস্তবে এই সময়সীমা সবসময় একই থাকে না। অতীতেও দেখা গেছে, নানা আর্থিক ও নীতিগত কারণে নতুন কমিশন গঠনে দেরি হয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব করার জন্য নিয়মিত মহামূল্য ভাতা বা ডিএ বাড়ানো হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিএ বৃদ্ধি পাওয়ায় দৈনন্দিন খরচ সামাল দিতে কর্মচারীরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আপাতত এই পথেই আয়ের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি, কেবল ডিএ বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হয় না। তাঁদের মতে, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে নতুন বেতন কাঠামো এখন সময়ের দাবি। অষ্টম বেতন কমিশন দ্রুত কার্যকর হলে মধ্যবিত্ত সরকারি কর্মচারীরা আর্থিকভাবে অনেকটাই উপকৃত হবেন বলে তাঁদের মত।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, নতুন বেতন কমিশন চালু হলে এর প্রভাব শুধু কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একদিকে মানুষের হাতে অতিরিক্ত টাকা এলে বাজারে চাহিদা বাড়বে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। অন্যদিকে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা বাজেটের ওপর চাপ ফেলতে পারে।
সব দিক বিবেচনা করলে স্পষ্ট যে অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও তা কবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। সরকার জানিয়েছে, বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের অপেক্ষা করতেই হবে।












