
GSI Finds Potential Gold Zones Across West Bengal,Source: social media
পশ্চিমবঙ্গের খনিজ সম্পদ সম্ভাবনা নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। রাজ্যের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে ভূতাত্ত্বিক জরিপে দেখা গেছে, স্বর্ণসহ নানা মূল্যবান খনিজের সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় খনিজ মন্ত্রক এই বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নজর রাখছে এবং সম্প্রতি প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে স্বর্ণের সম্ভাব্য খনি স্থল চিহ্নিত হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মোট নয়টি স্থানে সম্ভাব্য স্বর্ণভাণ্ডার পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও অধিকাংশ জায়গা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে খনিজ অনুসন্ধানের ফলাফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে গভীর খনন করা হতে পারে। এটি রাজ্যের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
বিশেষ করে পুরুলিয়া ও বান্দুরা অঞ্চলে ভূতাত্ত্বিক গঠন স্বর্ণসহ অন্যান্য খনিজের জন্য উপযোগী। রুদ্রা ও আশেপাশের এলাকায় পাথরের মধ্যে স্বর্ণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে খনিজ অনুসন্ধানের জন্য মনোনীত ছিল এবং সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ এই ধারণাকে আরও দৃঢ় করেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রাজ্যে বিরল ভূতাত্ত্বিক উপাদানের সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুলিয়ার কিছু এলাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ১৪-১৭ প্রকার খনিজ শনাক্ত হয়েছে। এই উপাদানগুলো আধুনিক প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং ইভি ব্যাটারির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এগুলো অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে মূল্যবান।
২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজ্যে বেশ কিছু খনিজ অনুসন্ধান প্রকল্প শুরু হয়েছে। ম্যানগানিজ, টাংস্টেন, তামা এবং গ্রাফাইটের মতো খনিজ খুঁজতে বিভিন্ন জেলায় অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। পুরুলিয়ায় চারটি অ্যাপাটাইট খনি ব্লক চিহ্নিত হয়েছে এবং এগুলো ব্যবসায়িকভাবে কাজে লাগানো হতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, রাজ্যে নতুন খনিজ সাইটগুলোতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিকভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। তবে এটি কার্যকর করতে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা অপরিহার্য।
খনিজ অনুসন্ধানের হিসাব অনুযায়ী, পুরুলিয়া জেলায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ১২.৮৩ মিলিয়ন টন স্বর্ণ আকরিক রয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক স্বর্ণের পরিমাণ ০.৬৫ টন। যদিও এটি দেশের অন্যান্য খনি অঞ্চল তুলনায় কম, বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনায় এটি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।












