
Hardik’s Comeback Masterclass Lights Up the First T20I,©BCCI
মঙ্গলবারের আলো যেন আলাদা মাত্রা নিয়ে হাজির হয়েছিল কটকের বারণবাটি স্টেডিয়ামে। সেই আলোয় সবচেয়ে বেশি ঝলসে উঠলেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। দীর্ঘদিন পর পুরো ছন্দে ফেরার এই ম্যাচটি যেন তাঁর আত্মবিশ্বাসকে আবারো আকাশে তুলে দিল। ভারতীয় দলের পরিস্থিতি যখন অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছিল, তখনই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন তিনি।
শুরুতে ভারত দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। পিচ ছিল ধীর, বল থেমে আসছিল, ব্যাটারদের শট খেলতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। ঠিক তখনই ক্রিজে এসে পাণ্ডিয়া যে ছন্দে ব্যাট করতে শুরু করলেন, তা পুরো ম্যাচের চিত্রটাই বদলে দিল। তাঁর প্রতিটি শটের মধ্যে ছিল আত্মবিশ্বাস, নিয়ন্ত্রণ আর আক্রমণের নিখুঁত মিশেল।
মাত্র ২৮ বলে তাঁর ৫৯ রানের ইনিংস ভারতকে শুধু বড় সংগ্রহের পথে ফেরায়নি, বরং দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মানসিকভাবেও পিছিয়ে দেয়। ছক্কা-চারের স্পষ্ট ব্যাটিং ভাষায় তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে তিনি এখনো আগের মতোই প্রস্তুত। দলের ড্রেসিংরুম থেকেও তাঁর ব্যাটিং দলের অন্যদের মনোবল বাড়িয়ে দেয়।
ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পর বল হাতে নেমেও তিনি রাখলেন সমান প্রভাব। ধারাবাহিক লাইন-লেন্থে তিনি চাপ তৈরি করেন, আর সেই চাপেই প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা ভুল করতে শুরু করে। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ একসময় ভেঙে পড়তে শুরু করে, আর পুরো দল ৮০ রানের আগেই গুটিয়ে যায়।
বোলিং বিভাগের সঙ্গে সঙ্গে ফিল্ডিংয়েও তাঁর নেতৃত্ব চোখে পড়ার মতো ছিল। মাঠের প্রতিটি প্লেয়ারকে কীভাবে নিজের সেরাটা দিতে উৎসাহিত করতে হয়, তা তিনি স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিলেন। এমন পারফরম্যান্সই আবার মনে করিয়ে দিল, কেন তাঁকে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ভারত ম্যাচ জিতলো বড় ব্যবধানে, আর ম্যাচের সেরা হিসেবে নির্বাচিত হওয়াও ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। এই জয় ভারতীয় দলের জন্য শুধু সিরিজের ভালো শুরু নয়, বরং নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা। বিশেষ করে পাণ্ডিয়ার ফর্ম পুরো দলের শক্তিমত্তাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আগামী ম্যাচগুলোতে তাঁর এমন ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভারতের জন্য এগিয়ে থাকা আরও সহজ হবে। মঙ্গলবারের সেই রাত যেন জানিয়ে দিল—হার্দিক পাণ্ডিয়ার ছন্দে ফেরাই দলের জন্য সুখবর, আর প্রতিপক্ষের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ।













