মদ বা অ্যালকোহল পান করা আজকাল অনেকের কাছে স্বাভাবিক অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ আনন্দের জন্য, কেউ মানসিক চাপ কমাতে আবার কেউ সামাজিকতার খাতিরে মদ পান করেন। কিন্তু এই অভ্যাসটি ধীরে ধীরে আমাদের শরীরের ভেতরে বড় ধরনের ক্ষতি করে, যা অনেক সময় শুরুতে বোঝাই যায় না। নিয়মিত বা অতিরিক্ত মদ পান করলে শরীরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
লিভারের উপর মারাত্মক প্রভাব
মদ পান করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় লিভারের। কারণ লিভারই অ্যালকোহল ভাঙার কাজ করে। নিয়মিত মদ পান করলে লিভারে চর্বি জমে যায়, যাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। ধীরে ধীরে এটি লিভার সিরোসিস বা লিভার সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার দিকে নিয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি
অ্যালকোহল সরাসরি মস্তিষ্কের স্নায়ুর উপর প্রভাব ফেলে। বেশি মদ পান করলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপান করলে ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা এমনকি মানসিক অসুস্থতাও দেখা দিতে পারে।
হার্ট ও রক্তচাপের সমস্যা
অনেকে মনে করেন অল্প মদ হার্টের জন্য ভালো, কিন্তু বাস্তবে নিয়মিত মদ পান করলে হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। অ্যালকোহল রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে।
পাকস্থলী ও হজমের সমস্যা
মদ পান করলে পাকস্থলীতে জ্বালা, গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি ও আলসার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। খাবার হজম ঠিকভাবে হয় না এবং বমি, পেটব্যথা বা ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কিডনি ও পানিশূন্যতা
অ্যালকোহল শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়, ফলে কিডনির উপর চাপ পড়ে। এর ফলে পানিশূন্যতা, কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়
নিয়মিত মদ পান করলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সহজেই সংক্রমণ, সর্দি-কাশি বা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
শেষ কথা
মদ পান করার ক্ষতি শুধু একদিনে বা এক সপ্তাহে বোঝা যায় না। এটি ধীরে ধীরে শরীরের ভেতর ক্ষতি করে এবং একসময় বড় রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সুস্থ জীবনযাপন করতে হলে মদ থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
ডিসক্লেইমার
এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য লেখা হয়েছে। এটি কোনো চিকিৎসা পরামর্শ নয়। শরীর বা মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা থাকলে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।













