
Home Loan Prepayment After Repo Rate Cut Explained,(AI image)
ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সাম্প্রতিক সময়ে রেপো রেট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে গৃহঋণের সুদের হারে। এই পরিবর্তনের ফলে লক্ষ লক্ষ ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি ও মোট সুদের খরচ নতুনভাবে হিসাব করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কিস্তি কমার দিকেই নজর না রেখে এখনই গৃহঋণ আগাম পরিশোধ করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।
রেপো রেট কমলে সাধারণত ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার ধীরে ধীরে কমে আসে। এর ফলে নতুন ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি পুরনো ঋণও তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংক কিস্তি কমানোর বদলে ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়। এতে মাসিক চাপ কিছুটা কমলেও দীর্ঘ মেয়াদে সুদের মোট অঙ্ক কমে না, বরং অনেক সময় বেশি হয়ে যায়।
গৃহঋণের শুরুতে কিস্তির বড় অংশই সুদ হিসেবে কাটা যায় এবং মূলধন খুব ধীরে কমে। এই সময় যদি ঋণগ্রহীতা অতিরিক্ত কিছু টাকা দিয়ে আংশিক প্রিপেমেন্ট করেন, তাহলে সুদের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। ফলে ঋণের মেয়াদ ছোট হয় এবং ভবিষ্যতের আর্থিক চাপও হালকা হয়।
বর্তমান সময়ে অনেক গৃহঋণই রেপো-লিংকড সুদের হারের সঙ্গে যুক্ত। এর মানে রেপো রেট কমলেই তার সুবিধা তুলনামূলক দ্রুত গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে যায়। এই পরিস্থিতিতে যারা নিয়মিত আয় করেন এবং হাতে কিছু সঞ্চয় রয়েছে, তাদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ হতে পারে ঋণের ভার কমানোর।
তবে আগাম পরিশোধের আগে নিজের আর্থিক অবস্থান ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। জরুরি তহবিল, চিকিৎসা বা হঠাৎ প্রয়োজনের জন্য কিছু টাকা হাতে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব সঞ্চয় একসঙ্গে ঋণ শোধে ব্যবহার না করে ভারসাম্য বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অনেকেই মনে করেন কম সুদের সময় ঋণ চালিয়ে যাওয়াই লাভজনক, কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে সুদের মোট অঙ্কই সবচেয়ে বড় বিষয়। সামান্য অতিরিক্ত পরিশোধ ভবিষ্যতে কয়েক লক্ষ টাকা বাঁচাতে পারে, যা অন্য বিনিয়োগ বা পারিবারিক প্রয়োজনে কাজে লাগানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে রেপো রেট কমার এই সময়টি গৃহঋণগ্রহীতাদের জন্য নতুন করে পরিকল্পনা করার উপযুক্ত মুহূর্ত। সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে শুধু মাসিক কিস্তিই নয়, পুরো ঋণজীবনের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমানো যায়। নিজের লক্ষ্য, আয় ও নিরাপত্তা মাথায় রেখে পরিকল্পিতভাবে আগাম পরিশোধই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বস্তির চাবিকাঠি।












