স্মার্টফোনে নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের সচেতনতা গত কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। ব্যক্তিগত ছবি, নথি, ব্যাংকিং তথ্য—সব কিছুই এখন মোবাইলে সংরক্ষিত। তাই ব্যবহারকারীরা এমন একটি নিরাপদ লক সিস্টেম চান, যা দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং ব্যবহার করতে সহজ। ঠিক এই জায়গায় ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক বড় পরিবর্তন এনেছে। আগে যেটি কেবল প্রিমিয়াম ফোনে দেখা যেত, এখন সেটি সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।
সব ফোনে সেন্সর না থাকলেও মিলছে নতুন অভিজ্ঞতা
অনেক ফোনে ইন-ডিসপ্লে সেন্সর নেই, তবে ব্যবহারকারীরা এখন বিশেষ অ্যাপ ও থিমের মাধ্যমে স্ক্রিনের ওপর ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক ব্যবহার করতে পারেন। যদিও এসব ভিজ্যুয়াল অ্যানিমেশন আসল সেন্সরের কাজ করে না, তবুও অনেকের জন্য এটি সুবিধাজনক একটি অভিজ্ঞতা তৈরি করে। তবে প্রকৃত নিরাপত্তা পেতে হলে ফোনে বিল্ট-ইন বায়োমেট্রিক সেন্সর থাকা জরুরি।
ফোনের সেটিংসে কিভাবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক চালু করবেন
যেসব ফোনে অফিসিয়ালি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে, তাদের সেটআপ খুবই সহজ। Settings মেনুতে গিয়ে Security বা Lock Screen অপশনে প্রবেশ করতে হবে। এরপর Fingerprint নির্বাচন করে একটি ব্যাকআপ পিন বা প্যাটার্ন সেট করতে হবে। তারপর আঙুল স্ক্যান করালেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে। এর পর থেকে ফোন অন করতে কিংবা অ্যাপ লক খুলতে আঙুলের ছাপই যথেষ্ট।
থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যবহারের আগে সতর্কতা জরুরি
বাজারে প্রচুর অ্যাপ রয়েছে যেগুলো দাবি করে যে তারা ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সক্রিয় করে। বাস্তবে এসব অ্যাপ মাত্র প্রদর্শনমূলক অ্যানিমেশন দেখায়। এর মাধ্যমে ফোন সুরক্ষিত হয় না। তাই ব্যবহারকারীদের উচিত এমন অ্যাপ ব্যবহারের আগে ভালো করে খোঁজ নেওয়া এবং শুধুমাত্র অফিসিয়ালি অনুমোদিত সিকিউরিটি সেটিংস ব্যবহার করা। ফোনের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কেন ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক এখন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য
পিন বা প্যাটার্ন অনেক সময় অন্য কেউ দেখে ফেলতে পারে বা অনুমান করে ফেলতে পারে। কিন্তু আঙুলের ছাপ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং নকল করা প্রায় অসম্ভব। এই কারণেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক আজকের দিনে সবচেয়ে নিরাপদ লক সিস্টেম হিসেবে ধরা হয়। বিশেষ করে যাদের ফোনে ব্যাংকিং অ্যাপ, অফিসিয়াল ডকুমেন্ট বা সংবেদনশীল তথ্য থাকে, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর।
সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনে একই সুবিধা পাওয়া যায় না
ডিসপ্লে সেন্সর ব্যবহারের জন্য ফোনে আলাদা হার্ডওয়্যার প্রয়োজন। তাই সব ফোনে এই ফিচার সক্রিয় হবে না। যেসব ডিভাইসে আলাদা সেন্সর নেই, সেখানে থার্ড-পার্টি অ্যাপের ওপর নির্ভর করলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। তাই ফোনে আসল Fingerprint অপশন আছে কি না, সেটি চেক করা জরুরি। এতে ব্যবহারকারীরা বুঝতে পারবেন তারা ঠিক কোন ধরনের নিরাপত্তা পাচ্ছেন।
ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি
স্মার্টফোনের নিরাপত্তা প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। কোম্পানিগুলো এখন দ্রুততর ও আরও সঠিক ডিসপ্লে সেন্সর তৈরিতে কাজ করছে। আগামী কয়েক বছরে এমন প্রযুক্তি আসতে পারে, যেখানে স্ক্রিনের যেকোনো জায়গায় আঙুল রাখলেই ফোন আনলক হবে। তাই যে ব্যবহারকারীরা স্মার্টফোনে নিরাপত্তাকে প্রথমে রাখেন, তাদের জন্য এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।













