
How Railways Are Preparing for the 8th Pay Commission,Source official website
অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ভারতীয় রেল ইতিমধ্যেই ভবিষ্যৎ আর্থিক চাপের হিসেব কষতে শুরু করেছে। সরকারি কর্মীদের বেতন ও ভাতা বাড়লে রেলের বার্ষিক ব্যয় যে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, তা নিয়ে রেল প্রশাসনের মধ্যে কোনও দ্বিধা নেই। সেই কারণেই আগাম পরিকল্পনার মাধ্যমে খরচ নিয়ন্ত্রণের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
রেল মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে, কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির ফলে রাজস্ব ও ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। দেশের বৃহত্তম নিয়োগকর্তা হিসেবে রেলের ওপর এই চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই পরিষেবার মান অক্ষুণ্ণ রেখে কোথায় কীভাবে সাশ্রয় করা যায়, সেটাই এখন মূল লক্ষ্য।
রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ট্রেনের কোচ, ইঞ্জিন এবং রেললাইনের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য আধুনিক সেন্সর ও ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে অপ্রয়োজনীয় মেরামত এড়ানো সম্ভব হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রেও নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বড় আকারে একসঙ্গে কেনাকাটা, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং দেশীয় উৎপাদকদের কাছ থেকে সরাসরি সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যয় হ্রাসের চেষ্টা করা হবে। এতে একদিকে খরচ কমবে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পও উপকৃত হবে।
জ্বালানি খাত রেলের ব্যয়ের একটি বড় অংশ দখল করে আছে। বিদ্যুৎ ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে শক্তি সাশ্রয়ী ব্যবস্থার দিকে ঝোঁকার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎচালিত ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করলে ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় সম্ভব বলে ধারণা।
রেল আধিকারিকদের মতে, এই খরচ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগগুলি কোনওভাবেই কর্মীদের স্বার্থের পরিপন্থী নয়। বরং আর্থিকভাবে শক্ত ভিত গড়ে তুললে কর্মীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধের পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নও সহজ হবে। কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে অষ্টম বেতন কমিশনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় রেল এখন একটি বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী পথে এগোতে চাইছে। কর্মীদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে খরচের লাগাম টেনে রেল পরিষেবাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করে তোলাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।












