
How the DHRUVA Framework Will Transform Address Services in India,Photo Credit: File Photo
ইন্ডিয়া পোস্ট দেশজুড়ে ঠিকানা ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও ডিজিটাল রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সম্প্রতি চালু করেছে নতুন এক কাঠামো— ধ্রুভা ফ্রেমওয়ার্ক। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি ঠিকানাকে আরও নির্দিষ্ট ও মানসম্মতভাবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ হিসেবে এই প্রকল্পকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডাক পরিষেবা থেকে শুরু করে সরকার ও বেসরকারি পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই এর সুফল পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ফ্রেমওয়ার্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো দেশব্যাপী একটি অভিন্ন ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থা তৈরি করা। বহু মানুষ একই ঠিকানা ভিন্নভাবে লেখেন, যার ফলে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর কাছে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ধ্রুভা চালু হলে প্রতিটি ঠিকানা একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল কোডে পরিণত হবে, যা ভুল-ত্রুটি কমাতে সাহায্য করবে।
ধ্রুভার মূল ভিত্তি একটি বিশেষ কোড, যা নির্দিষ্ট একটি ভৌগোলিক স্থানাঙ্ককে প্রতিনিধিত্ব করবে। এই কোডের সাহায্যে কোনো এলাকার মাত্র কয়েক বর্গমিটার জায়গাও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ফলে ডাক বিতরণ, কুরিয়ার সার্ভিস বা জরুরি পরিষেবা—যে কোনো ক্ষেত্রেই দ্রুত ও নিখুঁতভাবে অবস্থান নির্ণয় করা যাবে।
ব্যবহারকারী বা নাগরিকদের সুবিধার দিকটিও এখানে গুরুত্ব পেয়েছে। ধ্রুভা ফ্রেমওয়ার্ক এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে মানুষ নিজের ঠিকানার তথ্য কার সঙ্গে, কতক্ষণ এবং কোন উদ্দেশ্যে ভাগ করবেন, তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারেন। এই অনুমতিনির্ভর ব্যবস্থা ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।
সরকার মনে করছে, এই নতুন উদ্যোগ সরকারি নথিপত্র, ব্যাংকিং, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা, এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতেও বড় ভূমিকা রাখবে। সঠিক ঠিকানা না থাকার কারণে বহু ক্ষেত্রে পরিষেবা দিতে দেরি হয় বা ভুল স্থানে পৌঁছে যায়। ধ্রুভা সেই সমস্যা দূর করতে পারবে, ফলে সামগ্রিক পরিষেবা প্রদানের গতি বাড়বে।
একই সঙ্গে এই কাঠামোয় অংশ নেবে বিভিন্ন সংস্থা, যারা ঠিকানা যাচাই, তথ্য সংগ্রহ বা পরিষেবা সংযোগের কাজ করবে। একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুরো ব্যবস্থার মান বজায় রাখবে। ফলে দেশের ঠিকানা ব্যবস্থাপনা আরও পেশাদার ও আধুনিক রূপ পাবে।
ধ্রুভা ফ্রেমওয়ার্ক চালুর ফলে দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামো আরও একটি স্তরে উন্নীত হলো। আধার বা UPI-এর মতোই এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে সহজতা ও স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেও দ্রুত ও দক্ষ করে তুলবে এই নতুন ডিজিটাল ঠিকানা উদ্যোগ।













