
India and New Zealand Sign Historic Free Trade Deal,Source: social media
ভারত ও নিউজিল্যান্ড সোমবার একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ আগামী কয়েক বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য স্থির করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের মধ্যে হওয়া আলোচনার পর এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
চুক্তি দীর্ঘ নয় মাসের আলোচনার পর চূড়ান্ত হয়েছে। এতে শুধু পণ্য বাণিজ্যই নয়, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পরিষেবা এবং উদ্ভাবনী ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দুই দেশই আশা করছে, এই চুক্তি তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
এফটিএ অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের পণ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহার করা হবে। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের দুধ, ফলমূল ও অন্যান্য পণ্য সহজেই ভারতের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। অন্যদিকে, ভারতের বহু পণ্যও জিরো শুল্কে নিউজিল্যান্ডে রপ্তানি করা সম্ভব হবে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।
চুক্তিতে প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিরও পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতের বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসতে পারে। এটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে।
শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, পরিষেবা, শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবীদের চলাচলেও সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের পথ খুলে দেবে এবং নতুন প্রযুক্তি শিখতে ও ব্যবহার করতে সাহায্য করবে।
এই চুক্তি ভারতের বাণিজ্য বৈচিত্র্যকরণ কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্ব বাণিজ্যে নানা ধরনের শুল্ক ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে, এটি ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও প্রসারিত করবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করার মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে শক্ত অবস্থান বজায় রাখতে পারবে।
মোটের উপর, ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও নতুন দিশা দিচ্ছে। এটি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে, যেখানে দু’দেশই সমৃদ্ধি এবং সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা দেখছে।












