
India-Bangladesh Ties at a Crossroads After Political Shift,Source: social media
ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংযোগে কিছু অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া অবকাঠামো এবং বাণিজ্য সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
২০২৪ সালের অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে গেছে। নতুন সরকার সংযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে আগের মতো স্থিতিশীল নীতিমালা গ্রহণ করতে পারছে না। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে পূর্বের সমঝোতা এবং বিশ্বাসের ভারসাম্য কিছুটা ভেঙে পড়েছে।
বাংলাদেশে ভারত-পৃষ্ঠপোষিত বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পও আপাতত স্থগিত বা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। আখাউড়া–আগরতলা রেললাইন, খুলনা–মোঙ্গলা রেললাইনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে না। এই প্রকল্পগুলো দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন, যাত্রী চলাচল এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাণিজ্যের কিছু সুবিধাও সীমিত হয়েছে। পূর্বে ভারত বাংলাদেশের মাধ্যমে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সুবিধা দিত, যা এখন কমেছে। এর প্রভাব সরাসরি রপ্তানি খাত ও ব্যবসায়ীদের ওপর পড়েছে। ফলে বাণিজ্য এবং অর্থনীতির গতিশীলতা কিছুটা ধীর হয়ে গেছে।
উত্তর–পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগে পরিবর্তন আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ মধ্যস্থতা করে এই অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করেছিল, যা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প স্থগিত থাকলে ভারতকে ভিন্ন বা দীর্ঘ রুট ব্যবহার করতে হবে, যা সময় এবং খরচ উভয়েই বাড়াবে।
মানবিক স্তরেও দুই দেশের মধ্যে আস্থা কমতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সীমান্তে পরিস্থিতি জনমতের ওপর প্রভাব ফেলছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্কের ইতিবাচক ধারার পরিবর্তন ঘটছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক সহযোগিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের জন্য সমঝোতা এবং নতুন কৌশল প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো, অবকাঠামো প্রকল্প চালু রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা আগামী দিনের চাবিকাঠি। যৌথ উদ্যোগ এবং স্বচ্ছ যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ককে পুনরায় স্থিতিশীল করা সম্ভব, যা দুই দেশের জন্যই উপকারী হবে।












