ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচকে ঘিরে ছিল তুমুল উত্তেজনা। সিরিজ ১-১ সমতায় থাকায় এই ম্যাচেই ঠিক হচ্ছিল চ্যাম্পিয়ন। ভিসাখাপত্তনমের পরিবেশ ছিল জমজমাট, আর দুই দলই জানত, ভুলের কোনো জায়গা নেই। শুরু থেকেই মাঠে ছিল চাপ, গতি এবং প্রত্যাশার মিশেল।
ম্যাচ শুরুর আগে টসেই দেখা গেল নতুন এক নাটকীয়তা। দীর্ঘদিন টসে হারতে থাকা ভারতীয় অধিনায়ক এবার কৌশল বদলে কয়েন ছুঁড়লেন অন্য হাতে। আশ্চর্যভাবে এই পরিবর্তনেই মিলল সাফল্য, আর ভারত নিল বোলিং করার সিদ্ধান্ত। শিশিরের প্রভাব আগের ম্যাচগুলিতে সমস্যা সৃষ্টি করেছিল, তাই বল হাতে শুরু করাই ছিল যুক্তিসঙ্গত।
এদিন ভারতীয় দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়—অলরাউন্ডার বাদ পড়ে সুযোগ পান তরুণ ব্যাটার, যিনি দলের মধ্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে পারেন বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা বাধ্য হয় দুই খেলোয়াড়কে বাদ দিতে, ইনজুরির কারণে নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হয় দলে। দু’দলই নিজেদের সেরা ভারসাম্য তৈরি করেই মাঠে নামে।
ম্যাচের শুরুতেই ভারত পেয়ে যায় সাফল্য। নতুন বলে প্রথম দিকের সুইং কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন ভারতের পেসার। শুরুটা যতটা রোমাঞ্চকর ছিল, ততটাই কঠিন হয়ে ওঠে ব্যাটিং। তবে উইকেটের স্বভাব দেখে বোঝা যাচ্ছিল, সময় কাটাতে পারলে ব্যাটাররা সুবিধা পেতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা এরপর ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরতে চেষ্টা করেন। একদিকে চাপ সামলানো, অন্যদিকে রান তোলা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ছিল বেশ উপভোগ্য। ভারতীয় বোলারদেরও বারবার পরিকল্পনা বদলাতে হয় পরিস্থিতি অনুযায়ী। শিশির পড়তে শুরু করলে বল গ্রিপ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে।
মধ্য ওভারে ম্যাচের মোড় কয়েকবার ঘুরে যায়। কখনো ভারতের নিয়ন্ত্রণ, তো কখনো দক্ষিণ আফ্রিকার দাপট—এই ওঠানামা ম্যাচকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে। প্রতিটি রান, প্রতিটি সুযোগ, প্রতিটি ভুলের গুরুত্ব ছিল অসীম। মনে হচ্ছিল শেষ পর্যন্ত যে দল স্থির থেকে চাপ সামলাতে পারবে, তারাই জিতবে।
দিন শেষে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এই ম্যাচ ছিল শুধুই একটি ওয়ানডে নয়, বরং দুই দলের মানসিক শক্তি, কৌশল, পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। দর্শকেরা পেয়েছে এক রোমাঞ্চকর লড়াই, আর ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থাকবে আরেকটি স্মরণীয় ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বৈরথ।













