
Intense Clashes Mark Day 8 of Winter Session in Lok Sabha and Rajya Sabha,Source official website
ভারতের সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের অষ্টম দিনটি রাজনৈতিক বিতর্ক, তর্ক-বিতর্ক ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ঝড়ে ভরপুর ছিল। সকাল থেকেই লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই বিষয়ভিত্তিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্বাচন সংস্কার, বিশেষ পুনরায় তালিকা ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক মানদণ্ড—এসব ইস্যু ঘিরে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী জোটের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলতে থাকে।
লোকসভা অধিবেশনে শুরু থেকেই আলোচনা তপ্ত হয়ে ওঠে যখন সরকারী শিবির নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধীদের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আক্রমণ করে। অপরদিকে বিরোধী সদস্যরা দাবি করেন যে সাম্প্রতিক সময়ে ভোটের নিরাপত্তা, তালিকা প্রণয়ন এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি যুক্তি দিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই বিরোধী কংগ্রেসের সিনিয়র নেতারা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, কমিশন গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পবিত্রতা রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে জবাব আসে যে বিরোধীরা পরাজয়ের আশঙ্কায় ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
লোকসভায় এদিন আরও একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা সামনে আসে যখন একজন সংসদ সদস্যকে অধিবেশন চলাকালীন নিয়মভঙ্গের অভিযোগে skধিক নজরে আনা হয়। বিষয়টি মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এবং বিরোধী দল এটিকে সংসদের শৃঙ্খলা মানদণ্ড নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কে রূপ দিতে চেষ্টা করে। ক্ষমতাসীন দল পাল্টা দাবি করে যে বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবেশ উত্তপ্ত করছে।
সংসদে দিনের আরেকটি উজ্জ্বল দিক ছিল নির্বাচন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ নিয়ে কিছু সদস্যের তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য। তাঁরা বলেন, দেশের বিপুল ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও নিরাপদ করতে সময়োপযোগী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। যদিও এই প্রস্তাবও রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে পারেনি।
অন্যদিকে রাজ্যসভায় ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা গানটির জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা তুলে ধরেন, তবে এখানেও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও মতপার্থক্য স্পষ্ট ছিল। আলোচনার মাঝেই সাংসদদের বক্তব্যে ইতিহাসের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে আসে।
দিনের শেষে উভয় কক্ষই অধিবেশন স্থগিত করে। কিন্তু অষ্টম দিনের বিতর্ক ও উত্তেজনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে শীতকালীন অধিবেশনের বাকি সময়টাও রাজনৈতিক মেরুকরণ ও তীব্র মতবিরোধে ভরা থাকবে। নির্বাচন সংস্কার, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল শাসন নিয়ে আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।












