
Lower Loan Rates, Reduced FD Returns: SBI Update,Source official website
স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া তাদের মেয়াদি আমানত এবং ঋণের সুদের হারে সম্প্রতি যে পরিবর্তন এনেছে, তা সাধারণ গ্রাহকদের আর্থিক পরিকল্পনায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক হিসেবে এসবিআইয়ের যে কোনও সিদ্ধান্তই বাজারে বিশেষ গুরুত্ব পায়। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন ঘোষণায় দেখা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ের টার্ম ডিপোজিটে আগের তুলনায় সুদের হার কিছুটা কমানো হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি এবং মাঝারি মেয়াদের আমানতে এই প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত সুদের সুবিধা আগের মতোই বজায় রাখা হয়েছে, যা এই শ্রেণির আমানতকারীদের জন্য স্বস্তির খবর।
ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, আমানতের সুদ কমানোর মূল উদ্দেশ্য হল তহবিল সংগ্রহের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা। বর্তমানে বাজারে নগদ প্রবাহ স্থিতিশীল থাকায় উচ্চ সুদ দিয়ে আমানত টানার প্রয়োজন ততটা নেই। এর ফলে ব্যাঙ্কের আর্থিক কাঠামো আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ঋণের সুদের হার কমানো হয়েছে, যা ঋণগ্রহীতাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা। গৃহঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ এবং কিছু ব্যবসায়িক ঋণের ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তির চাপ কিছুটা হালকা হতে পারে। এতে নতুন করে ঋণ নেওয়ার আগ্রহ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার কমার ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির মাসিক বাজেট সামলানো কিছুটা সহজ হবে। বাড়ি কেনা বা বড় কোনও প্রয়োজনীয় খরচের পরিকল্পনা যাঁরা করছেন, তাঁদের জন্য এই সময়টা সুবিধাজনক হতে পারে। পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলিও কম সুদের সুবিধা নিয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে।
তবে আমানতকারীদের ক্ষেত্রে ছবিটা একটু ভিন্ন। সুদের হার কমায় ব্যাংকে রাখা সঞ্চয় থেকে আগের মতো আয় নাও পাওয়া যেতে পারে। ফলে অনেকেই বিকল্প বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে পারেন। যদিও সেক্ষেত্রে ঝুঁকির বিষয়টিও ভেবে দেখা জরুরি।
সব দিক বিবেচনা করলে, এসবিআইয়ের এই সিদ্ধান্ত বর্তমান আর্থিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঋণগ্রহীতাদের জন্য স্বস্তি এলেও আমানতকারীদের নতুন করে আর্থিক পরিকল্পনা করতে হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।












