পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া (SIR) ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের উপর যদি অন্যায় বা হয়রানি হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে তিনি আইনি পথে লড়াই করবেন। জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, SIR-এর নামে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে, অকারণে নথি চাওয়া হচ্ছে, এমনকি অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ মানুষ মানসিক চাপে ভুগছেন। অনেক প্রবীণ মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক বা গরিব পরিবারের সদস্যরা ঠিকমতো কাগজ দেখাতে না পারায় সমস্যায় পড়ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, প্রশাসনিক কঠোরতা ও অসংবেদনশীল আচরণের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, ভোটাধিকার মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, সেটাকে কেড়ে নেওয়ার কোনও চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
এই কারণেই তিনি ঘোষণা করেছেন, SIR-এর কারণে যে সব অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন। প্রয়োজনে রাজ্য সরকার আইনি লড়াই চালাবে এবং দরকার হলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই লড়াই কোনও রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বার্থে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা বিষয়টিকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, ভোটার তালিকা সংশোধন তো নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সেখানে এত আপত্তি কেন।
সব মিলিয়ে, SIR ইস্যু এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয়। ভোটের আগে এই বিতর্ক আরও কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজ্যবাসী। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য স্পষ্ট— সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি কোনওভাবেই পিছু হটবেন না।













