
“Mamata Criticizes Centre for Removing Gandhi’s Name from MGNREGA”,Photo Credit: ANI
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার দেশের মঙ্গল ও ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করছে কারণ তারা মহাত্মা গান্ধীর নাম মনরেগা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটি শুধুই একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক মর্যাদাকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন সিদ্ধান্ত দেশের সংবিধান ও জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে সরকার দেশের পিতার নাম অপসারণ করে, তা দেশের ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারবে না।” তার মতে, গান্ধীর নাম সরানো শুধু ইতিহাসের প্রতি অবজ্ঞা নয়, এটি সাধারণ মানুষের মনোবল ও দেশের নৈতিক ভিত্তিকেও প্রভাব ফেলবে।
সম্প্রতি সংসদে Viksit Bharat–Guarantee for Rozgar and Ajeevika Mission (Gramin) আইন পাস হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান আইন, যা MGNREGA নামে পরিচিত ছিল, তার কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন আইন গ্রামীণ পরিবারগুলিকে বছরে নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিলেও, গান্ধীর নাম বিল থেকে সরানোর বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজস্ব কর্মসংস্থান প্রকল্পকে গান্ধীর স্মৃতি রক্ষায় পুনঃনামকরণ করবে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দরিদ্রদের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় তহবিল বন্ধ থাকলেও রাজ্য পর্যায়ে এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।
বিরোধী দলগুলোও কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপকে সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এটি গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকারকে হ্রাস করার এবং তাদের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা। রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা বলছেন, গান্ধীর মূল্যবোধকে এভাবে উপেক্ষা করা দেশের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করবে।
এই বিতর্কের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন আইনের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নের আধুনিকীকরণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা করছে। তবে বিরোধীরা এটিকে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর বলছেন। তারা মনে করছেন, ইতিহাসের প্রতি অবজ্ঞা দেশের ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জ করছে।
দেশজুড়ে এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামাজিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে আরও আলোচ্য করে তুলেছে। প্রাকৃতিকভাবে, দেশের সাধারণ মানুষও এই পরিবর্তনকে নিয়ে নানা মত পোষণ করছেন, যা আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করবে।












