
Max Holden Retired Out After Rare Stumping Drama in ILT20,© X (Twitter)
আবুধাবির শেইখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আইএলটি২০–র একটি ম্যাচে এমন এক বিরল ও বিস্ময়কর মুহূর্ত তৈরি হয়, যা মুহূর্তেই ক্রিকেট দুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। Desert Vipers ও MI Emirates–এর মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৬তম ওভারে উইকেটকিপার নিকোলাস পুরান এমন একটি সিদ্ধান্ত নেন, যা সাধারণত কোনো কিপারই নেন না। ব্যাটসম্যান ম্যাক্স হোল্ডেন স্পষ্টভাবে ক্রিজের বাইরে ছিলেন, তবু পুরান স্টাম্পিং না করে বলটি ইচ্ছাকৃতভাবে ধরে রাখেন।
পুরানের সামনে ছিল একদম সহজ একটি সুযোগ, কারণ রশিদ খানের ডেলিভারিতে হোল্ডেন পুরোপুরি ভুল ফুটওয়ার্কে পড়ে ক্রিজ হারিয়েছিলেন। দর্শকেরা তো বটেই, ধারাভাষ্যকাররাও ধরে নিয়েছিলেন সঙ্গে সঙ্গে স্টাম্পিং হবে। কিন্তু পুরানের চুপচাপ বল ধরা এবং কোনো অ্যাকশন না নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বহু বিশেষজ্ঞকেই অবাক করে দেয়। ক্রিকেট আইনের দিক থেকে এতে কোনো ভুল হয়নি, তবে মাঠের বাস্তবতায় এটি ছিল একদম ব্যতিক্রমী দৃশ্য।
অনেকে মনে করছেন, পুরান ইচ্ছাকৃতভাবেই স্টাম্পিং থেকে বিরত ছিলেন, কারণ হোল্ডেন তখন ধীর গতির ব্যাটিং করছিলেন। তাকে আউট না করলে হয়তো প্রতিপক্ষ দলের রান তোলার গতি কমে যেত, এবং সেই কৌশলই হয়তো পুরানের মাথায় ছিল। টি২০ ক্রিকেটে এ ধরনের মানসিক খেলা বা ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত এখন নতুন নয়।
তবে পরের বলেই ঘটল আরও বড় চমক। Vipers দল সরাসরি ম্যাক্স হোল্ডেনকে ‘রিটায়ারড আউট’ ঘোষণা করে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনল। হোল্ডেনের ৩৭ বলে ৪২ রানের ইনিংস দীর্ঘ হওয়ায় দল দ্রুত স্কোর বৃদ্ধির জন্য নতুন ব্যাটসম্যান পাঠায়। মাঠে প্রবেশ করেন শিমরন হেটমায়ার ও স্যাম কারান, যারা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেন।
এই কৌশলগত পরিবর্তন দলের জন্য উপকারী হয়ে ওঠে। Vipers নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৯ রান তুলতে সক্ষম হয়। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে MI Emirates লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত ১৫৮ রানে থেমে যায়। মাত্র এক রানের জয় নিশ্চিত করে Desert Vipers, যা ম্যাচটিকে আরও নাটকীয় করে তোলে।
পুরানের স্টাম্পিং না করার ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এটিকে অসাধারণ ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করেছেন এটি খেলার চেতনার পরিপন্থী। দু’পক্ষের যুক্তিই নিজের জায়গায় প্রাসঙ্গিক হলেও, ক্রিকেট আইন অনুযায়ী পুরানের সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ বৈধ।
টি২০ ক্রিকেটে কৌশলগত পরিবর্তনের এই ধারা ভবিষ্যতে আরও উদ্ভাবনী সিদ্ধান্তের জন্ম দিতে পারে। মাঠে প্রতিটি বল, প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেখানে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, সেখানে পুরানের এই মুহূর্ত নিঃসন্দেহে অনেকদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।












