
Messi Event Controversy: Kolkata Organizer’s Home Raided,(Credits: Facebook)
কলকাতায় লিওনেল মেসি কেন্দ্রিক ইভেন্টকে ঘিরে বিতর্কের জট আরও জটিল আকার নেয়। যুবভারতী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটির মূল আয়োজনকারী সতদ্রু দত্তের বাড়িতে পুলিশ হঠাৎ তল্লাশি চালায়। এই বাড়িতে বিলাসবহুল সুইমিং পুল, ছাদে ফুটবল মাঠ এবং আধুনিক অফিসসহ অন্যান্য ব্যয়বহুল জিনিসপত্র পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই তল্লাশি মূলত আর্থিক অনিয়মের তদন্তের অংশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেসির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য দর্শকদের কাছ থেকে প্রতি ছবি ১০ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হয়েছিল। তবে এই টাকার কোন বৈধ নথি বা হিসাব পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, নগদ বা অঘোষিত আয়ের মাধ্যমে এই ইভেন্ট থেকে বিপুল অর্থ লাভ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এই অনিয়মের পরিমাণ কোটি কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে।
ইভেন্টের টিকিট বিক্রিতেও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। ৬৬,০০০ আসন ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামে অনেক দর্শককে বলা হয়েছে কিছু টিকিট বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এই যুক্তি বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং এটি অর্থ সংক্রান্ত অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।
সতদ্রু দত্তের একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টও তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে। যেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রাখা ছিল। তদন্তকারীরা অনলাইন টিকিটিং সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, যাতে বোঝা যায় টিকিটের বড় অঙ্ক কারা কিনেছে এবং কেউ প্রভাবশালী পাস পেয়েছে কি না।
ইভেন্ট চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের অভাব দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে মাঠে হট্টগোল শুরু হয়। ঘটনার পর সতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
অনেক দর্শক অভিযোগ করেছেন, তারা বিপুল অর্থ দিয়ে মেসিকে দেখার সুযোগ পাননি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভ দেখা দেয়। এছাড়া, টিকিটের অস্বচ্ছতা এবং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি ইভেন্টটিকে বিতর্কিত করে তোলে।
বর্তমানে পুলিশ ও বিশেষ তদন্তকারী দল বিস্তারিত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। তারা চেষ্টা করছে বোঝার, এই ইভেন্টে অর্থের লেনদেন কীভাবে হয়েছে এবং কোন কোন ব্যক্তি বা সংস্থা এতে সরাসরি জড়িত। আগামীদিনে তদন্তের সঙ্গে আরও তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।












