নতুন ফোন কেনার উত্তেজনা সবারই থাকে। দোকানে গেলেই চকচকে নতুন মডেল দেখে মনটা খুশিতে ভরে যায়। কিন্তু এটাই সেই সময় যখন একটু ভুল করলেই আপনার হাতে নকল, খোলা বক্স বা রিফারবিশড ফোন চলে আসতে পারে। বাইরে থেকে দেখতে সব ফোনই একই রকম লাগে, কিন্তু ছোট একটি ভুল ভবিষ্যতে আপনাকে বড় ঝামেলায় ফেলতে পারে। তাই ফোন কেনার আগে পাঁচটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত। এতে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন ফোনটি সত্যিই নতুন এবং অরিজিনাল কি না।
১. প্রথমেই দেখে নিন ফোনের ওয়ারেন্টি
যে কোনো নতুন ফোনের সাথে কোম্পানির দেওয়া ওয়ারেন্টি থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, দোকানে থাকা বক্সটি পুরোনো কিংবা খোলা হওয়ায় ওয়ারেন্টির সময় আগেই শুরু হয়ে গেছে। আবার অনেক ব্র্যান্ড অনলাইনে IMEI নম্বর দিয়ে ওয়ারেন্টি যাচাই করে দেখার সুযোগ দেয়।
ফোন কেনার সময় যা করবেন—
বক্সে থাকা IMEI নম্বর ব্যবহার করে ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল সাইটে ওয়ারেন্টি চেক করুন।
দেখুন ওয়ারেন্টি কি আজকের তারিখ থেকে শুরু দেখাচ্ছে।
চার্জার, কেবল বা অন্য অ্যাকসেসরিজে আলাদা ওয়ারেন্টি আছে কি না দেখে নিন।
ওয়ারেন্টিতে সমস্যা থাকলে বুঝবেন ফোনটা সন্দেহজনক। তখনই অন্য ইউনিট চাইতে হবে।
২. নতুন ফোন হলে বক্স অবশ্যই সিল করা থাকবে
ফোনটি খাঁটি নতুন কিনা, তার প্রথম প্রমাণ হলো বক্সের অরিজিনাল সিল।
সিল ভাঙা মানে ফোনটি আগে কেউ খুলে দেখেছে—এটাই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন—
সিল যেন একদম নতুন থাকে, কোনো কাটাছেঁড়া না থাকে।
বক্সের কোণ বা প্লাস্টিক যেন চাপা বা দাগযুক্ত না হয়।
দোকানদার যদি বলে “ডিসপ্লে দেখানোর জন্য খুলেছি”, সাথে সাথে বুঝবেন বিষয়টা ঠিক নেই।
নতুন ফোনের বক্স কখনোই আগেই খোলা থাকে না—এটা মনে রাখলেই ভুল হবে না।
৩. ফোনের IMEI নম্বরটা আগে নিজেই যাচাই করুন
প্রতিটি ফোনের নিজের একটি আলাদা পরিচয় নম্বর থাকে, যাকে বলা হয় IMEI।
একটি IMEI নম্বর কখনো দুটি ফোনে পাওয়া যায় না। এই নম্বর দিয়েই বোঝা যায় ফোনটি অরিজিনাল নাকি কোথাও ব্ল্যাকলিস্টেড।
IMEI পাওয়া যাবে—
ফোনের বক্সে
ফোনের সেটিংসে
ফোনের পিছনের স্টিকারে
ফোন হাতে নেওয়ার পরই এগুলো মিলিয়ে দেখুন।
একটিও সংখ্যা না মিললে ফোনটি সঙ্গে সঙ্গে ফেরত দিন।
৪. *#06# ডায়াল করে IMEI ম্যাচ করা—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
এই ধাপটি অনেক ক্রেতাই এড়িয়ে যান, অথচ নকল ফোন ধরার এটিই সবচেয়ে সহজ উপায়। ফোনের ডায়ালারে গিয়ে শুধু *#06# চাপবেন। সঙ্গে সঙ্গে স্ক্রিনে IMEI নম্বর দেখা যাবে।
এখন যা করবেন—
স্ক্রিনের IMEI নম্বর বক্সের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন।
ডুয়াল সিম হলে দুইটি IMEI দেখাবে—দুটোই মিলানো জরুরি।
যদি কোনোটি না মিলে, ফোন কেনার কথা ভুলেও ভাববেন না।
নকল বা রিপেয়ার করা ফোনে সাধারণত বক্স ও ফোনের IMEI আলাদা থাকে। তাই এই পরীক্ষা কখনো বাদ দেবেন না।
৫. Phone Doctor Plus অ্যাপ দিয়ে পুরো ফোন স্ক্যান করুন
ফোন কেনার পরই অনেকেই শুধু ক্যামেরা খুলে দেখে বা টাচ করে দেখে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সমস্যা ভিতরে থাকলে তা চোখে দেখা যায় না। সে জন্যই Phone Doctor Plus-এর মতো অ্যাপ দরকার।
এই অ্যাপটি চেক করে—
টাচ স্ক্রিন ঠিকমতো কাজ করছে কি না
স্পিকার ও মাইকের সাউন্ড ক্লিয়ার কি না
ক্যামেরায় কোনো দাগ, স্পট বা ব্লার আছে কি না
সেন্সরগুলো (লাইড সেন্সর, প্রক্সিমিটি সেন্সর ইত্যাদি) ঠিক আছে কি না
ব্যাটারি হেলথ কেমন
WiFi ও সিগন্যাল ঠিকমতো ধরছে কি না
কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে দোকানদারকে জানান। নতুন ফোন হলে তারা ইউনিট বদলে দেবে।
শেষ কথা
নতুন ফোন কেনা শুধু টাকা খরচ করার ব্যাপার নয়—সঠিক ফোন নেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এখনকার বাজারে নকল এবং রিফারবিশড ফোনের সংখ্যা বেড়েছে। তাই সতর্ক না থাকলে নিজেই ক্ষতির মুখে পড়বেন।
সবসময় মনে রাখবেন—
✔ ওয়ারেন্টি চেক
✔ বক্সের অরিজিনাল সিল
✔ IMEI যাচাই
✔ *#06# কোড দিয়ে মিল
✔ Phone Doctor Plus দিয়ে সম্পূর্ণ টেস্ট
এই পাঁচটি ধাপ মেনে চললেই ভুল ফোন কেনার আশঙ্কা শূন্যের কোঠায় চলে আসবে।
নতুন ফোন কেনার আনন্দও থাকবে দুশ্চিন্তামুক্ত ও নিশ্চিন্ত।













