
November Sees Steep Drop in Gold Imports, Analysts Unfazed,Source: social media
নভেম্বর মাসে ভারতের সোনা আমদানিতে বড়সড় পতন নজরে এসেছে। সরকারি বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে সোনা আমদানি মাসিক ভিত্তিতে প্রায় ৭৩ শতাংশ কমেছে। অক্টোবর মাসে যেখানে আমদানির অঙ্ক ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি, সেখানে নভেম্বরে সেই তুলনায় স্পষ্টভাবেই গতি কমেছে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন চাহিদা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত নয়।
অক্টোবর মাসে উৎসব ও বিয়ের মরসুমকে সামনে রেখে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই বড় পরিমাণে সোনা আমদানি করেছিলেন। ধনতেরাস, দীপাবলি ও বিয়ের কেনাকাটার চাপ সামলাতে এই স্টকিং করা হয়েছিল। ফলে সেই মাসে আমদানির অঙ্ক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। এর স্বাভাবিক প্রভাব হিসেবেই পরের মাসে আমদানির পরিমাণ কমে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম তুলনামূলকভাবে উচ্চ স্তরে থাকায় অনেক ক্রেতা নতুন কেনাকাটা কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছেন। খুচরো বাজারে দামের চাপ থাকলে সাধারণত গয়নার চাহিদা সাময়িকভাবে ধীর হয়। তবে এতে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং সময়ের সঙ্গে তা ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।
এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সামগ্রিক হিসাব করলে দেখা যায়, চলতি আর্থিক বছরে সোনা আমদানির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের কাছাকাছিই রয়েছে। অর্থাৎ একটি মাসের পতন পুরো বছরের প্রবণতাকে বদলে দিচ্ছে না। ভারতীয় পরিবারে সোনার প্রতি আস্থা ও বিনিয়োগের ঝোঁক এখনও অটুট রয়েছে।
শুধু সোনা নয়, নভেম্বর মাসে রূপা আমদানিতেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। উৎসবের আগে আগাম মজুতের পর স্বাভাবিক বাজারে ফিরে আসার প্রবণতা এখানেও স্পষ্ট। এর ফলে সামগ্রিকভাবে মূল্যবান ধাতুর আমদানির অঙ্ক কমেছে এবং দেশের মোট আমদানিতেও তার প্রভাব পড়েছে।
রত্ন ও গয়না শিল্পের ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে এই খাতে আমদানির পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এটি পুরোপুরি মৌসুমি কারণেই হয়েছে এবং বছরের শেষের দিকে পরিস্থিতি আবার বদলাতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নভেম্বরের পরিসংখ্যান দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সোনা নিয়ে ভারতীয় বাজারের মৌলিক চাহিদা এখনও শক্তিশালী। দাম ও মরসুমের ওঠানামার সঙ্গে আমদানির অঙ্ক কমবেশি হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে সোনার প্রতি মানুষের আগ্রহ যে অটুট, তা এই তথ্যই স্পষ্ট করে।












