
“Pilot Duty Hours Drop to 246 per Year in India”,Source: social media
ভারতের বাণিজ্যিক পাইলটরা বর্তমানে বছরে গড়ে মাত্র ২৪৬ ঘণ্টা বিমানে উড়ছেন। এটি ২০১৫ সালের তুলনায় অনেক কম, যখন পাইলটরা বার্ষিক গড়ে ৪০৭ ঘণ্টা উড়তেন। কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই সময় আরও কমে ১৬৫ ঘণ্টায় নেমেছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে, তারপরও বর্তমান পরিসংখ্যান অতীতের তুলনায় কম রয়েছে।
পাইলটদের মধ্যে ক্লান্তি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরিপ অনুযায়ী প্রায় ৮৩ শতাংশ পাইলট স্বীকার করেছেন যে তারা নিয়মিত ক্লান্তি অনুভব করেন। দীর্ঘ সময়ের রাতের ফ্লাইট, ঘন রোস্টার পরিবর্তন এবং হঠাৎ টেইল স্ব্যাপের কারণে এই ক্লান্তি ক্রমবর্ধমান হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত বিশ্রামের অভাব পাইলটদের দক্ষতা এবং নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে।
রোস্টারের পরিবর্তন পাইলটদের জন্য বিশেষভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। প্রায় ৭৪ শতাংশ পাইলট মনে করছেন যে বারবার রোস্টার পরিবর্তন তাদের ক্লান্তি বাড়াচ্ছে। টেইল স্ব্যাপের প্রভাবও কম নয়; প্রায় ৬৪ শতাংশ পাইলট বলেছেন যে হঠাৎ বিমান পরিবর্তন তাদের কাজের চাপকে বাড়িয়ে দেয়।
পাইলটের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরে অনেক বেড়েছে। ২০১৫ সালে প্রায় ৩,৯৭৩ পাইলট থাকলেও বর্তমানে তা ১১,৭৭৫–এ পৌঁছেছে। কিন্তু এয়ারক্রাফটের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে পাইলটের অনুপাত প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এর ফলে প্রতিটি পাইলটের উপর কাজের চাপ কমেনি।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, Flight Duty Time Limitation চালু হয়েছে। এর লক্ষ্য পাইলটদের যথেষ্ট বিশ্রামের সময় নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে রাতের ফ্লাইটের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। এই পদক্ষেপ মূলত পাইলটদের ক্লান্তি কমানো এবং উড়ানের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য নেওয়া হয়েছে।
তবে অনেক পাইলট এবং বিমান সংস্থা মনে করছেন, নিয়মগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা উচিত। হঠাৎ পরিবর্তন রোস্টারের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, যা উড়ানের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই সুষম পরিকল্পনা অপরিহার্য।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাইলটদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে, ক্লান্তি কমানোর উদ্যোগ সত্ত্বেও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই বিমান সংস্থাগুলোকে পাইলটদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার দিকে আরও মনোযোগ দিতে হবে।












