
Platinum Emerges as a New Investment Star,Source: social media
বিশ্বের ধাতু বাজারে প্লাটিনাম আবারও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সোনার ছায়ায় থাকা এই মূল্যবান ধাতু এখন বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে ধীরে ধীরে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বাজার প্রবণতা বলছে, সোনার উচ্চ দামের কারণে অনেকেই বিকল্প বিনিয়োগের পথ খুঁজছেন, আর সেই সুযোগেই প্লাটিনাম সামনে আসছে শক্ত সম্ভাবনা নিয়ে।
গত কয়েক মাসে প্লাটিনামের দামের গতিবিধিতে একটি স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বহু বছর ধরে সীমিত পরিসরে ঘোরাফেরা করার পর এই ধাতু এখন উপরের দিকে এগোনোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দামের এই উত্থান কেবল সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার সূচনা হতে পারে।
এই পরিবর্তনের বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে সোনা থেকে বিনিয়োগের সরে আসা বা তথাকথিত রোটেশন। সোনার বাজার ইতিমধ্যেই অনেকটাই পরিপক্ব হয়ে উঠেছে, ফলে নতুন বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত কম মূল্যায়িত সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। প্লাটিনাম সেই দিক থেকে একটি শক্ত বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে, কারণ এর বর্তমান মূল্য এখনও অতীতের উচ্চ স্তরের তুলনায় কম।
শিল্পক্ষেত্রেও প্লাটিনামের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। অটোমোবাইল শিল্পে নির্গমন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিতে এই ধাতুর ব্যবহার দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি হাইড্রোজেন শক্তি ও ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে প্লাটিনামের চাহিদা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই শিল্পভিত্তিক চাহিদা দামের পেছনে একটি শক্ত ভিত তৈরি করছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হারের ওঠানামার মধ্যেও প্লাটিনাম তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যান্য ধাতুর তুলনায় এর সরবরাহ সীমিত হওয়ায় চাহিদা বাড়লে দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আশাবাদী সুর শোনা যাচ্ছে। বর্তমান বাজার ধারা বজায় থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্লাটিনামের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ২০২৬ সালের মধ্যে এর মূল্য ২৩০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
সব দিক বিবেচনা করলে বলা যায়, প্লাটিনাম এখন ধীরে ধীরে নিজেকে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। সোনা থেকে বিনিয়োগের সরে আসা, শিল্প চাহিদার বৃদ্ধি এবং সীমিত সরবরাহ—এই তিনের সমন্বয়ে ভবিষ্যতে প্লাটিনামের বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।












