পূর্ব বর্ধমান কাটোয়া, Raju Das: পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ায় মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে একটি নতুন প্রশিক্ষণ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাত্র ৪ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে মহিলারা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত বেকার ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের কথা মাথায় রেখেই এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের “উৎকর্ষ বাংলা” প্রকল্পের আওতায় ও কাটোয়া পৌরসভার সহায়তায় একটি বেসরকারি প্রশিক্ষণ সংস্থার উদ্যোগে কাটোয়া এলাকায় এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শুরু হয়েছে।
‘News 18 বাংলার’ একটা রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মূল বিষয় সেলাই ও পোশাক তৈরির কাজ। বর্তমানে পোশাক তৈরির কাজ ছোট ব্যবসা হিসেবে অনেকের জন্য আয়ের বড় সুযোগ তৈরি করছে। তাই এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিলে মহিলারা সহজেই নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয়ের পথ তৈরি করতে পারবেন বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার পরই স্থানীয় বহু মহিলা আগ্রহ দেখিয়েছেন। প্রথম ধাপে প্রায় ৪০ জনের মতো প্রশিক্ষণার্থী এই কোর্সে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বেকার যুবতী, আবার কেউ কেউ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা। কেউ কেউ মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর বাড়িতে ছিলেন, কিন্তু এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছায় এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন।
এই প্রশিক্ষণ কোর্সটি মোট ৪ মাস ধরে চলবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের পোশাক তৈরির বিভিন্ন ধাপ শেখানো হবে। প্রথমে সেলাই মেশিন ব্যবহার করা, কাপড়ের মাপ নেওয়া, কাটিং করা এবং সেলাইয়ের প্রাথমিক নিয়ম শেখানো হবে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিশুদের পোশাক, ফ্রক, কুর্তি, চুড়িদারসহ নানা ধরনের পোশাক কীভাবে তৈরি করতে হয়, সেই সব বিষয় শেখানো হবে। পাশাপাশি পোশাক ডিজাইনের প্রাথমিক ধারণাও দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের একটি সরকারি স্বীকৃত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এই সার্টিফিকেট ভবিষ্যতে চাকরি বা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়াই নয়, প্রশিক্ষণ শেষে অনেককে পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থা বা গার্মেন্টসের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা রয়েছে। অনেক মহিলার জন্য বাড়িতে বসেই কাজ করার সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থা থেকে অর্ডার এনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলাদের মাধ্যমে সেই কাজ করানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। এতে পরিবার সামলানোর পাশাপাশি বাড়িতে বসেই আয়ের সুযোগ পেতে পারেন অনেক মহিলা।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করা মহিলাদের সেলাই মেশিন দেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এতে তারা নিজেরাই ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। অনেকের মতে, এতে গ্রাম বা শহরতলির মহিলাদের জন্য একটি স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি হতে পারে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া অনেক মহিলাই জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়েই এই কোর্সে যোগ দিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের জীবনে নতুন সুযোগ এনে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব মহিলা আগে কোনও কাজের সুযোগ পাননি, তাদের জন্য এটি বড় সহায়ক হতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, এখনও অনেক জায়গায় মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। তাই এই ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ মহিলাদের আত্মনির্ভর হওয়ার পথে বড় ভূমিকা নিতে পারে। কাটোয়ায় শুরু হওয়া এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে জেলার আরও বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মাত্র ৪ মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহিলাদের হাতে নতুন দক্ষতা তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রেও এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে।
তাই যারা এই কোর্স করতে বা সেলাই শিখতে আগ্রহী তারা কাটোয়ার পৌরসভার অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

I am Raju Das. I have been working in news and digital journalism for more than five years. I have a strong interest in covering politics and regional news. Before publishing any report, our team always conducts in-depth research and verifies the information so that we can present accurate and reliable news to our readers.
I run a news website called “Mtimes,” where we mainly publish important local and regional news. Our goal is to deliver fast, accurate, and trustworthy information to readers. That’s why we try to analyze the background and real situation behind every story and present it in simple and clear language.
Our team continuously works hard to improve the quality of our reporting and journalism.
In today’s era of digital journalism, my main goal is to provide readers with reliable, fact-based local and regional news they can trust.













