
Rajya Sabha Sparks Heated Debate on 150 Years of Vande Mataram,(Sansad TV via ANI Video Grab)
রাজ্যসভায় ৯ ডিসেম্বরের অধিবেশন একটি তীব্র সাংসদীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, যখন ‘বন্দে মাতরম’–এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গানটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, এই বিতর্ক শুধু একটি দেশাত্মবোধক গানের মূল্যায়ন নয়—বরং রাজনৈতিক ব্যাখ্যার সংঘর্ষেও রূপ নিতে চলেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অপরিসীম শক্তির উৎস ছিল। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, গানটি কোনও অঞ্চল বা ভাষার গণ্ডিতে আটকে নেই; বরং সমগ্র জাতির আবেগের প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের আধুনিক অগ্রগতির পথচলায় এই গান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
তবে বিরোধীদল এতে তীব্র আপত্তি তোলে। তাদের অভিযোগ, গানটিকে কেন্দ্র করে ইতিহাসের বিশেষ অধ্যায়কে মনমতো ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তারা দাবি করে, অতীতের সিদ্ধান্তগুলো ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সামঞ্জস্য রক্ষা করার প্রয়োজনে নেওয়া যৌথ মতামতের ফল, কোনও রাজনৈতিক ভয় বা আপসের কারণে নয়।
কংগ্রেসসহ কয়েকটি বিরোধী দলের নেতা জানান, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ‘বন্দে মাতরম’ ছিল ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু আজ সেটিকেই রাজনৈতিক যুক্তি দাঁড় করানোর উদ্যোগ সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য—যে গান মানুষকে একসঙ্গে আনত, সেটিকেই আবার বিভাজনের আলোচনায় টেনে আনা উচিত নয়।
বিতর্কের মাঝে কয়েকজন সাংসদ আরও সতর্ক করে বলেন, দেশপ্রেমকে কেন্দ্র করে কোনও প্রতীক যখন রাজনৈতিক মঞ্চে অস্ত্র হয়ে ওঠে, তখন তার মূল তাৎপর্য ক্ষুণ্ন হয়। তারা মনে করেন, কোনও নির্বাচন বা নীতিগত বিতর্কের জয়ের জন্য জাতীয় আবেগকে ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে সমাজেই বিভাজনের দাগ তৈরি হয়।
অন্যদিকে, সরকারপক্ষের যুক্তি ছিল আত্মবিশ্বাসী। তারা বলেন, দেশের সেনা, ক্রীড়াবিদ, শিক্ষার্থী—সবাই এই গান উচ্চারণ করেন দেশমায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। তাই গানটির বার্তা মানুষকে আরও ঐক্যবদ্ধ করতেই পারে, বিভাজন নয়। তাদের মতে, ‘বন্দে মাতরম’ কখনোই বিতর্কের নয়, বরং শ্রদ্ধা ও গৌরবের বিষয়।
দিনের শেষে রাজ্যসভায় বিতর্ক থেমে গেলেও প্রশ্ন রয়ে গেল—এমন সাংস্কৃতিক প্রতীকের মূল্যায়ন কি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের রঙে রাঙানো উচিত, নাকি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে একে আরও সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখা জরুরি? ১৫০ বছর পরেও এই গানটি দেশকে ভাবতে বাধ্য করছে, আমরা আসলে কোন পথে এগোতে চাই।












