
Rare Cold Spell Hits Karnataka This Winter,Source: social media
কর্নাটকের আবহাওয়ায় চলতি শীতে যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের নজর কাড়ার পাশাপাশি গবেষকদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে সাধারণত মৃদু শীত অনুভূত হলেও এবছর পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। অনেক এলাকায় হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ঠান্ডার অনুভূতি বেড়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে বেশ অচেনা বলে মনে হচ্ছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, এই শীতল পরিস্থিতির পেছনে বৈশ্বিক আবহাওয়াগত প্রভাব কাজ করছে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট লা নিনা পরিস্থিতি দক্ষিণ ভারতের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ধরনের বৈশ্বিক পরিবর্তন সাধারণত বৃষ্টি ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধারায় রদবদল ঘটায়, যার প্রভাব এবার কর্নাটকেও পড়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন অংশে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই নেমে যাচ্ছে। ভোরের দিকে কুয়াশা এবং ঠান্ডা বাতাসের কারণে সকালের জীবনযাত্রা কিছুটা ধীর হয়ে পড়ছে। শহর ও গ্রাম—দুই এলাকাতেই মানুষকে গরম পোশাকের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা কর্নাটকের শীতকালে সচরাচর দেখা যায় না।
গবেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিকে পুরোপুরি উত্তর ভারতের কোল্ড ওয়েভ বলা না গেলেও কর্নাটকের প্রেক্ষাপটে এটি নিঃসন্দেহে বিরল। অতীতে খুব কম সময়ই এমন শীতল আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। তাই এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের জলবায়ু প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঠান্ডার প্রভাব কৃষিক্ষেত্রেও পড়তে শুরু করেছে। কিছু এলাকায় ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, আবার কোথাও সকালের কুয়াশা চাষের কাজে সমস্যা তৈরি করছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ এই ধরনের ঠান্ডা আবহাওয়া শিশু ও প্রবীণদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই গরম কাপড় ব্যবহার, পর্যাপ্ত উষ্ণতা বজায় রাখা এবং ঠান্ডা সময়ে অযথা বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, লা নিনার প্রভাব ধীরে ধীরে কমলেও ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন ব্যতিক্রমী আবহাওয়া আরও দেখা যেতে পারে। কর্নাটকের এই শীতল অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে প্রকৃতির পরিবর্তন এখন আর দূরের বিষয় নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনেরই একটি অংশ হয়ে উঠছে।












