
Record High Silver Prices Spark Global Investment Buzz,Source: social media
বিশ্ববাজারে রূপার দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক আউন্সে ৭০ ডলারের ওপরে পৌঁছেছে। এই ঊর্ধ্বগতি মূলত শক্তিশালী শিল্প চাহিদা, বিনিয়োগের বাড়বাড়ন্ত এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব থেকে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হার কমানোর সম্ভাবনাও রূপার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করছে।
গত মঙ্গলবার রূপার আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে ৭০.০৬ ডলার প্রতি আউন্স পর্যন্ত পৌঁছেছে। দিনের মধ্যেই দাম সর্বোচ্চ ৭০.১৮ ডলার পর্যন্ত ওঠে, যা রূপার ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক। এদিকে, ভারতীয় বাজারে রূপার দামও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে, প্রতি কেজি প্রায় ২,১৭,৭৯১ টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশে রূপার বাজারের জন্য নতুন রেকর্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে।
গত বছরের তুলনায় রূপার দাম এই বছরের মধ্যে প্রায় ১৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা রূপার চাহিদাকে বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই ঊর্ধ্বগতিকে ত্বরান্বিত করেছে।
শুধু বিনিয়োগের কারণে নয়, রূপা সৌরপ্যানেল, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং আধুনিক শিল্পেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই কারিগরি চাহিদা দীর্ঘমেয়াদে রূপার মূল্যকে সমর্থন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধাতুর শিল্পমূল্য এবং বিনিয়োগমূল্য উভয়ই একসাথে বেড়ে চলেছে।
ভারতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রূপার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও রূপা দুটোই গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এই বছরের মধ্যে রূপার দাম স্বর্ণের তুলনায় অনেক বেশি উপার্জন দিয়েছে। এর ফলে অনেক ব্যক্তিই রূপায় বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন।
রূপার আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধিতে সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বুলিয়ন ক্রয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অন্যান্য ধাতুর তুলনায় রূপা সহজলভ্য নয়, যা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আরও আকর্ষণ করেছে।
সংক্ষেপে, ২০২৫ সালে রূপা কেবল একটি মূল্যবান ধাতু নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ এবং শিল্প চাহিদার প্রতীক হিসেবেও আবির্ভুত হয়েছে। তার দাম বৃদ্ধিতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কারিগরি চাহিদার মিলিত প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।












