ব্যক্তিগত সময় রক্ষায় বড় পদক্ষেপ: রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল | Right to Disconnect: India Moves to Protect Personal Time

Right to Disconnect: India Moves to Protect Personal Time

ভারতে কর্মীদের কর্মঘণ্টার বাইরে অফিস-চাপ থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি লোকসভায় উপস্থাপিত হয়েছে Right to Disconnect Bill, 2025। এই প্রস্তাবিত আইনটি পেশাজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাড়তে থাকা ডিজিটাল চাপ কমিয়ে তাদের ব্যক্তিগত সময়কে সুরক্ষিত করার দাবি তুলেছে। কর্মীদের অধিকার ও মানসিক সুস্থতার প্রসঙ্গে এটি এখন নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

বিলে বলা হয়েছে, অফিসের নির্ধারিত সময় শেষ হলে কর্মীদের আর কাজ-সংক্রান্ত কল, মেসেজ বা ইমেইলের জবাব দিতে বাধ্য করা যাবে না। অর্থাৎ কর্মীরা চাইলে একদম স্বচ্ছন্দে ‘অফলাইনে’ যেতে পারবেন এবং এর জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। সময়মতো বিশ্রাম পাওয়াই যে কর্মীদের অধিকার — বিলটি সেই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

আজকের ডিজিটাল যুগে অনেক কর্মীরই অভিযোগ — অফিস সময় শেষ হলেও ফোন, নোটিফিকেশন ও অনলাইন মিটিংয়ের কারণে কাজ যেন কখনোই সত্যিকারের শেষ হয় না। এতে বাড়ে মানসিক চাপ, কমে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সময়। বিলটি সেই প্রেক্ষাপটেই কর্মীদের সুস্থ জীবনযাপন ও মানসিক শান্তির গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

তবে এই আইন শুধুমাত্র কর্মীদের সুবিধা নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার কাঠামো তৈরি করতেও ভূমিকা রাখবে। কারণ, কেউ যদি সময়ের বাইরে কাজ করতে চান বা প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে আলোচনায় আসতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক বাধ্যতামূলক করা হবে। এতে কাজের মূল্যায়ন ও সম্মতির গুরুত্ব আরও জোরদার হবে।

Also Read:  পদায়াপ্পা ও নীলাম্বরীর অজানা গল্প বললেন রজনীকান্ত | Rajinikanth Reveals Untold Story Behind Padayappa and Neelambari

বিলে আরও উল্লেখ রয়েছে যে প্রতিষ্ঠানগুলিকে কর্মীদের ডিজিটাল ওভারলোড থেকে রক্ষা করতে অভ্যন্তরীণ নীতি তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠন করে নিশ্চিত করতে হবে কর্মীরা যেন বিনা অনুমতিতে অফিস-চাপের মুখে না পড়েন। কর্মসংস্কৃতিকে স্বাস্থ্যকর করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ পাশ হলে ভারতের লাখ লাখ কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে কর্মীরা যেমন নিজেদের পুনরুজ্জীবিত করতে পারবেন, তেমনি কর্মদক্ষতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কারণ, বিশ্রাম পাওয়া কর্মীই বেশি মনোযোগী ও সৃজনশীলভাবে কাজ করতে পারেন — বিশ্বজুড়ে বহু গবেষণাই তা প্রমাণ করেছে।

ডিজিটাল যুগে কাজের সীমা ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। Right to Disconnect Bill সেই অস্পষ্ট সীমারেখাকে পরিষ্কার করতে চাইছে। এই আইন কার্যকর হলে “অফিসের পরে অফিস” — এই দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি বদলে গিয়ে কর্মীরা নতুন করে নিজের সময়, পরিবার এবং ব্যক্তিগত জীবনের মূল্য খুঁজে পেতে পারেন।


WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top