
Rising Gold Risks Prompt RBI Action,Source: social media
রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সম্প্রতি সোনার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ওঠানামা এবং মূল্য অস্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এই পরিস্থিতি স্বর্ণঋণ প্রদানে ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম নিয়মিতভাবে ওঠানামা করছে, যা রুপি ও ডলারের বিনিময় হারের সঙ্গে জড়িত। এই অস্থিরতার কারণে ঋণগ্রহীতারা সহজে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হতে পারে। বিশেষত, যদি হঠাৎ করে সোনার মূল্য হ্রাস পায়, তাহলে ব্যাংকগুলো তাদের সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন করতে অসুবিধা অনুভব করতে পারে।
বর্তমান সময়ে স্বর্ণঋণের চাহিদা তীব্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে উৎসব ও বিয়ের মরসুমে বাড়ির ক্রেতা ও গহনার ব্যবসায়ীরা ঋণ গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছেন। গত কয়েক বছরে স্বর্ণঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা অর্থনীতিতে একটি নতুন চাপ তৈরি করছে।
RBI সতর্ক করেছে, তরুণ প্রজন্ম এই ঋণের দিকে বিশেষভাবে ঝুঁকছে। ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে অধিকাংশ গ্রাহক এই ঋণ গ্রহণ করছেন। অনেকেই ঋণকে বিনিয়োগের চেয়ে ব্যক্তিগত ভোগবিলাসের জন্য ব্যবহার করছেন, যা পরবর্তীতে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সোনার দামের ওঠানামা শুধু ঋণ ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করছে না, সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলছে। হঠাৎ দাম বৃদ্ধি বা হ্রাসের কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন। ফলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রায়ই পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, RBI‑এর পদক্ষেপ মূলত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা। ব্যাংক ও নন‑ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যেই কঠোর ঋণ নীতি গ্রহণ করেছে। স্বল্পমানের ঋণ দেওয়া কমানো হয়েছে এবং ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক সক্ষমতার মূল্যায়ন আরও কঠোর করা হয়েছে।
মোটের উপর, রিজার্ভ ব্যাংকের সতর্কতা এবং ঋণ সীমার পুনর্বিন্যাস দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এটি স্বর্ণঋণের বাজারকে স্থিতিশীল রাখবে এবং ভবিষ্যতে ঋণ সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।












