জীবনে হঠাৎ এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যখন অল্প সময়ের মধ্যে টাকার প্রয়োজন হয়। চিকিৎসা খরচ, পারিবারিক সমস্যা, পড়াশোনার ফি বা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে তখন অনেকেই আর্থিক চাপের মধ্যে পড়ে যান। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) সাধারণ মানুষের জন্য পার্সোনাল বা জরুরি ঋণের ব্যবস্থা রেখেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া সম্ভব।
SBI-এর এই ঋণ স্কিমটি কী ধরনের
এটি মূলত একটি পার্সোনাল লোন, যা আপনি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন। এই টাকার ব্যবহার নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে SBI তাদের পুরনো ও নিয়মিত গ্রাহকদের জন্য দ্রুত অনুমোদনের সুবিধাও দেয়, যাকে সাধারণভাবে প্রি-অ্যাপ্রুভড লোন বলা হয়।
এই ঋণ সাধারণত স্বল্প থেকে মাঝারি মেয়াদের জন্য দেওয়া হয় এবং মাসিক কিস্তিতে ফেরত দিতে হয়।
কারা এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন
সাধারণভাবে এই ঋণের জন্য আবেদন করতে হলে—
- আবেদনকারীর একটি সক্রিয় SBI ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে
- নিয়মিত আয়ের উৎস থাকতে হবে (চাকরি বা ব্যবসা)
- ক্রেডিট স্কোর মোটামুটি ভালো হলে সুবিধা হয়
- প্রয়োজনীয় পরিচয় ও আয়ের প্রমাণ দেখাতে সক্ষম হতে হবে
SBI-এর পুরনো গ্রাহক হলে ঋণ পাওয়া তুলনামূলক সহজ হয়।
সাধারণ মানুষ কীভাবে এই টাকা পেতে পারে
এই ঋণের জন্য দুইভাবে আবেদন করা যায়।
প্রথমত, অনলাইনে। যদি আপনার মোবাইলে SBI-এর ব্যাংকিং অ্যাপ বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং চালু থাকে, তাহলে সেখান থেকেই পার্সোনাল লোন অপশনে গিয়ে আবেদন করা যায়। সেখানে ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ বেছে নিয়ে সহজ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই আবেদন সম্পন্ন হয়।
দ্বিতীয়ত, ব্যাংক শাখায় গিয়ে। কাছের SBI শাখায় গিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে আবেদন করা যায়। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জানিয়ে দেবেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন।
আবেদন করার আগে যেগুলো মাথায় রাখা জরুরি
ঋণ নেওয়ার আগে নিজের মাসিক আয় ও খরচ হিসাব করে কিস্তি দেওয়া সম্ভব কিনা তা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্দিষ্ট সময়ে কিস্তি না দিলে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে ক্রেডিট স্কোরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উপসংহার
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার পার্সোনাল বা জরুরি লোন সাধারণ মানুষের জন্য একটি কার্যকর আর্থিক সহায়তা, বিশেষ করে যখন হঠাৎ টাকার প্রয়োজন হয়। প্রায় ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে জরুরি সমস্যা সামাল দেওয়া সম্ভব, যদি নিয়ম মেনে সঠিকভাবে আবেদন করা যায়। তবে যেকোনো ঋণের মতোই, এটি নেওয়ার আগে দায়িত্বের সঙ্গে ভাবা ও পরিকল্পনা করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এই ঋণ কঠিন সময়ে বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারে।













